ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথাব্যথা? স্ট্রোকের এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করবেন না রেসিং সান্তান্দারকে ৩-০ গোলে হারিয়ে রিয়ালের টানা ষষ্ঠ জয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন হুমায়ুন কবির পুতিনকে ‘বাস্তব জীবনের বন্ড ভিলেন’ ও ‘শয়তান’ বললেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ঠেকাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে ফেনীতে বিএনপি নেতা লিংকনের সংবাদ সম্মেলন জামালপুরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস – ২০২৬ উদযাপিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ময়মনসিংহে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে শ্যামনগরে টানা মানববন্ধন নেত্রকোনায় পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য

প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প, দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে মাদারগঞ্জের পালপাড়ার


জামালপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০৫৯ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের পালপাড়া একসময় মৃৎশিল্পের জন্য পরিচিত ছিল। মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কলস, নৌকা, হাতি-ঘোড়াসহ নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এ গ্রামের মানুষ। পূজা-পার্বণসহ বিভিন্ন উৎসবে গানবাজনা আর আনন্দ-উৎসবে মুখর থাকত পালপাড়া। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও এ গ্রামের মৃৎশিল্পের পরিচিতি ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যে এখন ভাটার টান। প্লাস্টিক ও অন্যান্য বিকল্প পণ্যের বিস্তারে কমে গেছে মাটির জিনিসের চাহিদা। ফলে বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখা পাল সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার এখন জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

বর্তমানে পালপাড়া বালিজুড়ী পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি পরিচিত জনপদ। তবে গ্রামের অনেক কারিগরের জীবনযাপনে স্বচ্ছলতা নেই। কেউ হোটেলে কাজ করছেন, কেউ ভ্যান চালাচ্ছেন, আবার কেউ অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে করে আসা মৃৎশিল্পের কাজ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের বিনিময়ে চাল-ধানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যেত। গ্রামীণ জীবনে মাটির হাঁড়ি, পাতিল ও কলসের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও অন্যান্য উপকরণের তৈরি পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে মাটির জিনিসের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আগে সহজে পাওয়া গেলেও এখন মাটি কিনে আনতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না বিক্রির দাম।

পালপাড়ার মৃৎশিল্পী রতুল কুমার পাল বলেন, ‘দাদা, মাটি আর আগের মতো পাওয়া যায় না। এখন টাকা দিয়ে মাটি কিনে আনতে হয়। সেই মাটি দিয়ে অনেক রকমের জিনিস তৈরি করে বাজারে নিয়ে গেলেও বিক্রি করতে পারি না। বাজারে অনেক ধরনের প্লাস্টিকের জিনিস পাওয়া যায়। মানুষ আর মাটির তৈরি জিনিস কিনতে চায় না। এ কারণে আমরা ভালোভাবে চলতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, অনেক আশা নিয়ে মাটি দিয়ে মনের মতো করে নৌকা, পাতিল, হাঁড়ি, কলস, হাতি ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করেন তাঁরা। এরপর রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে রং করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বিক্রি না হলে তাঁদের কষ্টের সীমা থাকে না। তখন পেশা পরিবর্তনের কথা মনে হলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা ছেড়ে যেতে মন সায় দেয় না। অনেক কষ্ট সহ্য করেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

রতুল কুমার পালের স্ত্রী দেবীরানী পাল বলেন, ‘দাদা, আমরা জীবনে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। অনেক সময় ঠিকমতো পেটের ভাতও জোগাড় করতে পারি না। আগের মতো মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি হয় না। তারপরও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে হবে। আমরা যত কষ্টই করি না কেন, সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।’

নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক দিন না খেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তো না খেয়ে থাকতে পারে না। তখন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়। আমিও স্বামীর পাশাপাশি মাটি দিয়ে নানা ধরনের জিনিস তৈরি করি। সেগুলো বাজারে বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর চেষ্টা করি।’

দেবীরানী পাল জানান, সামনে জামাইমেলাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মেলায় মাটির তৈরি পণ্য বিক্রির আশায় তাঁরা এখন বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মেলাগুলোতে ভালো বিক্রি হলে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি মিলবে বলে আশা তাঁদের।

অভাব-অনটনের মধ্যেও পালপাড়ার পরিবারগুলো সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও খাবারের সংকট থাকলেও সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের স্বপ্ন, ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে চাকরি করবে এবং পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করবে।

তবে শুধু পারিবারিক প্রচেষ্টায় এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ, বাজারে চাহিদার অভাব এবং প্লাস্টিকের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় মৃৎশিল্পীরা ক্রমেই সংকটে পড়ছেন।

পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহযোগিতা এবং তাঁদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে মাটির তৈরি পণ্য বিক্রির সুযোগ বাড়ানো গেলে কারিগরদের আয়ও বাড়তে পারে।

মাটির সঙ্গে যাঁদের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে, সেই মানুষগুলোর কাছে মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য। তাই অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও পালপাড়ার কারিগররা এ শিল্প আঁকড়ে ধরে আছেন। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে পালপাড়ার মৃৎশিল্প এবং বেঁচে থাকবে গ্রামবাংলার প্রাচীন এই ঐতিহ্য।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প, দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে মাদারগঞ্জের পালপাড়ার

আপডেট সময় : ১১:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের পালপাড়া একসময় মৃৎশিল্পের জন্য পরিচিত ছিল। মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কলস, নৌকা, হাতি-ঘোড়াসহ নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এ গ্রামের মানুষ। পূজা-পার্বণসহ বিভিন্ন উৎসবে গানবাজনা আর আনন্দ-উৎসবে মুখর থাকত পালপাড়া। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও এ গ্রামের মৃৎশিল্পের পরিচিতি ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যে এখন ভাটার টান। প্লাস্টিক ও অন্যান্য বিকল্প পণ্যের বিস্তারে কমে গেছে মাটির জিনিসের চাহিদা। ফলে বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখা পাল সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার এখন জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

বর্তমানে পালপাড়া বালিজুড়ী পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি পরিচিত জনপদ। তবে গ্রামের অনেক কারিগরের জীবনযাপনে স্বচ্ছলতা নেই। কেউ হোটেলে কাজ করছেন, কেউ ভ্যান চালাচ্ছেন, আবার কেউ অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে করে আসা মৃৎশিল্পের কাজ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের বিনিময়ে চাল-ধানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যেত। গ্রামীণ জীবনে মাটির হাঁড়ি, পাতিল ও কলসের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও অন্যান্য উপকরণের তৈরি পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে মাটির জিনিসের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আগে সহজে পাওয়া গেলেও এখন মাটি কিনে আনতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না বিক্রির দাম।

পালপাড়ার মৃৎশিল্পী রতুল কুমার পাল বলেন, ‘দাদা, মাটি আর আগের মতো পাওয়া যায় না। এখন টাকা দিয়ে মাটি কিনে আনতে হয়। সেই মাটি দিয়ে অনেক রকমের জিনিস তৈরি করে বাজারে নিয়ে গেলেও বিক্রি করতে পারি না। বাজারে অনেক ধরনের প্লাস্টিকের জিনিস পাওয়া যায়। মানুষ আর মাটির তৈরি জিনিস কিনতে চায় না। এ কারণে আমরা ভালোভাবে চলতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, অনেক আশা নিয়ে মাটি দিয়ে মনের মতো করে নৌকা, পাতিল, হাঁড়ি, কলস, হাতি ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করেন তাঁরা। এরপর রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে রং করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বিক্রি না হলে তাঁদের কষ্টের সীমা থাকে না। তখন পেশা পরিবর্তনের কথা মনে হলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা ছেড়ে যেতে মন সায় দেয় না। অনেক কষ্ট সহ্য করেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

রতুল কুমার পালের স্ত্রী দেবীরানী পাল বলেন, ‘দাদা, আমরা জীবনে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। অনেক সময় ঠিকমতো পেটের ভাতও জোগাড় করতে পারি না। আগের মতো মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি হয় না। তারপরও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে হবে। আমরা যত কষ্টই করি না কেন, সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।’

নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক দিন না খেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তো না খেয়ে থাকতে পারে না। তখন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়। আমিও স্বামীর পাশাপাশি মাটি দিয়ে নানা ধরনের জিনিস তৈরি করি। সেগুলো বাজারে বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর চেষ্টা করি।’

দেবীরানী পাল জানান, সামনে জামাইমেলাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মেলায় মাটির তৈরি পণ্য বিক্রির আশায় তাঁরা এখন বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মেলাগুলোতে ভালো বিক্রি হলে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি মিলবে বলে আশা তাঁদের।

অভাব-অনটনের মধ্যেও পালপাড়ার পরিবারগুলো সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও খাবারের সংকট থাকলেও সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের স্বপ্ন, ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে চাকরি করবে এবং পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করবে।

তবে শুধু পারিবারিক প্রচেষ্টায় এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ, বাজারে চাহিদার অভাব এবং প্লাস্টিকের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় মৃৎশিল্পীরা ক্রমেই সংকটে পড়ছেন।

পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহযোগিতা এবং তাঁদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে মাটির তৈরি পণ্য বিক্রির সুযোগ বাড়ানো গেলে কারিগরদের আয়ও বাড়তে পারে।

মাটির সঙ্গে যাঁদের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে, সেই মানুষগুলোর কাছে মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য। তাই অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও পালপাড়ার কারিগররা এ শিল্প আঁকড়ে ধরে আছেন। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে পালপাড়ার মৃৎশিল্প এবং বেঁচে থাকবে গ্রামবাংলার প্রাচীন এই ঐতিহ্য।