ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের, ইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০৬২ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক ভোটার কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে তথ্য পেয়েছে দলটি। এ ছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার অভিযোগও করেন তিনি।
সরকারদলীয় পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত চিত্র ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, এসব পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইরুজ ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠার পরও ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি অভিযোগ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করলে চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের বৈধ পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছিল না। পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তাঁরা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর মতে, এ ধরনের অনিয়ম জাল ভোটের সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণের খবর পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বেশি থাকাই নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। ভোটারদের নিরাপত্তা, জাল ভোট প্রতিরোধ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর আশঙ্কা, একটি উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা না গেলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।
তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।




















