ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আমার ছেলের তো কোনো অপরাধ ছিল না, তাকে কেন হত্যা করা হলো


মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ( ময়মনসিংহ প্রতিনিধি)
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২২৮৬ বার পড়া হয়েছে

 

আমার ছেলের তো কোনো অপরাধ ছিল না। সে তো সঠিক প্রতিবাদ করেছিল। তাকে কেন হত্যা করা হলো? আমি কার কাছে এর বিচার চাইব?’ ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে এভাবেই আহাজারি করে করে বলছিলেন নিহত সাংবাদিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন এর বৃদ্ধ বাবা মো. হাসাল জামিল।

 

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভাটিপাড়ার বাসিন্দা তারা। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে নিহত তুহিনের পরিবারের খোঁজ নিতে গেলে প্রতিবেদকের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন এই অসহায় বাবা। ছেলের শোকে কাতর হাসান জামিল আরও বলেন, গত পরশু আমার ছেলে আমার জন‍্য ওষুধ কিনতে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছে। এখন কে আমার জন‍্য ওষুধ পাঠাবে।

 

তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুল বলেন, গত পরশু আমার ছেলে তার বাবার জন‍্য ওষুধ কেনার টাকা পাঠিয়েছে। সে মোবাইলে কল করে আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারলো। কী দোষ তার?

 

তুহিনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম বলেন, যারা তুহিনকে মেরেছে। তাদের ফাঁসি চাই। তারা মানুষ না, অমানুষ। এমন করে কেউ কোনো মানুষকে মারতে পারে না।

 

ভাগ্নে আবু রায়হান বলেন, মামা (তুহিন) ব‍্যবসার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সাংবাদিকতা করতো। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। আমারা তার খুনিদের ফাঁসি চাই।

 

সূত্র জানায়, তুহিনের বড় ভাই জসিম উদ্দিন গাজীপুর চৌরাস্তায় ব‍্যবসা করতো। লেখাপড়া শেষ সেখানেই সে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করতো তুহিন। তবে ২০০৯ বা ১০ সালের দিকে হঠাৎ বড় ভাই জসিম ক‍্যন্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বতর্মানে তুহিন ও তার অপর ভাই সেলিম গাজীপুরে বসবাস করেন। এর মধ‍্যে সেলিম পরিবহন শ্রমিকের কাজ করেন।

 

দ্বিতীয় ভাই জাহাঙ্গীর আলম কক্সবাজার টেকনাফে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এবং অন‍্য ভাই শাজাহান মিয়া বতর্মানে সিলেটে বসবাস করেন। তাদের দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বতর্মানে গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা ও মা বসবাস করেন। তারা বার্ধক‍্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ছেলেরাই তাদের দেখভাল করে আসছিলেন।

 

পারিবারিক সূত্র জানা যায়, বতর্মানে তুহিনের মরদেহ গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় রয়েছে। সেখানে আজ বাদ জোহর তার প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হবে। এরপর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

আমার ছেলের তো কোনো অপরাধ ছিল না, তাকে কেন হত্যা করা হলো

আপডেট সময় : ০৩:২০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

 

আমার ছেলের তো কোনো অপরাধ ছিল না। সে তো সঠিক প্রতিবাদ করেছিল। তাকে কেন হত্যা করা হলো? আমি কার কাছে এর বিচার চাইব?’ ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে এভাবেই আহাজারি করে করে বলছিলেন নিহত সাংবাদিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন এর বৃদ্ধ বাবা মো. হাসাল জামিল।

 

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভাটিপাড়ার বাসিন্দা তারা। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে নিহত তুহিনের পরিবারের খোঁজ নিতে গেলে প্রতিবেদকের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন এই অসহায় বাবা। ছেলের শোকে কাতর হাসান জামিল আরও বলেন, গত পরশু আমার ছেলে আমার জন‍্য ওষুধ কিনতে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছে। এখন কে আমার জন‍্য ওষুধ পাঠাবে।

 

তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুল বলেন, গত পরশু আমার ছেলে তার বাবার জন‍্য ওষুধ কেনার টাকা পাঠিয়েছে। সে মোবাইলে কল করে আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারলো। কী দোষ তার?

 

তুহিনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম বলেন, যারা তুহিনকে মেরেছে। তাদের ফাঁসি চাই। তারা মানুষ না, অমানুষ। এমন করে কেউ কোনো মানুষকে মারতে পারে না।

 

ভাগ্নে আবু রায়হান বলেন, মামা (তুহিন) ব‍্যবসার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সাংবাদিকতা করতো। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। আমারা তার খুনিদের ফাঁসি চাই।

 

সূত্র জানায়, তুহিনের বড় ভাই জসিম উদ্দিন গাজীপুর চৌরাস্তায় ব‍্যবসা করতো। লেখাপড়া শেষ সেখানেই সে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করতো তুহিন। তবে ২০০৯ বা ১০ সালের দিকে হঠাৎ বড় ভাই জসিম ক‍্যন্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বতর্মানে তুহিন ও তার অপর ভাই সেলিম গাজীপুরে বসবাস করেন। এর মধ‍্যে সেলিম পরিবহন শ্রমিকের কাজ করেন।

 

দ্বিতীয় ভাই জাহাঙ্গীর আলম কক্সবাজার টেকনাফে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এবং অন‍্য ভাই শাজাহান মিয়া বতর্মানে সিলেটে বসবাস করেন। তাদের দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বতর্মানে গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা ও মা বসবাস করেন। তারা বার্ধক‍্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ছেলেরাই তাদের দেখভাল করে আসছিলেন।

 

পারিবারিক সূত্র জানা যায়, বতর্মানে তুহিনের মরদেহ গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় রয়েছে। সেখানে আজ বাদ জোহর তার প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হবে। এরপর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হবে।