ওষুধ আছে, সেবা নেই — শেরপুর সদর হাসপাতালের ভিতরের কাহিনি ফাঁস
- আপডেট সময় : ১২:০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৭১৭ বার পড়া হয়েছে
শেরপুর সদর হাসপাতালে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য, ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য এবং প্রশাসনিক নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে—হাসপাতালের সেবা ব্যাহত, রোগীর অধিকার ক্ষুণ্ণ, এবং সরকারি সম্পদের অপচয় প্রায় নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বের ঘটনাগুলোর পাশাপাশি চলমান দুর্নীতির বিস্তারিত, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, এবং নথি-প্রমাণ তুলে ধরা হলো। শেরপুর সদর হাসপাতালে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য, ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য এবং প্রশাসনিক নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে—হাসপাতালের সেবা ব্যাহত, রোগীর অধিকার ক্ষুণ্ণ, এবং সরকারি সম্পদের অপচয় প্রায় নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বের ঘটনাগুলোর পাশাপাশি চলমান দুর্নীতির বিস্তারিত, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, এবং নথি-প্রমাণ তুলে ধরা হলো।
২০১৯–২০২৪ সালের অনিয়মের নথি ও সংবাদ বিশ্লেষণ
২০১৯: অনুমোদনহীন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা। (Sherpur Times, প্রশাসনিক নথি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি নং- ১০৩২, তারিখ: ১৫/০৭/২০১৯)
২০২০: মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভুয়া বিল-ভাউচারে ওষুধ বরাদ্দ লোপাট। (Jugantor, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা রিপোর্ট, তারিখ: ১২/১১/২০২০)
২০২৩: আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিটে যন্ত্রপাতি থাকলেও সেবায় ব্যবহার না করা। (DhakaTimes24, হিসাবরক্ষণ শাখার মজুদ তালিকা, তারিখ: ০৫/০৩/২০২৩)
২০২৪: ছাত্র-জনতার আন্দোলন, তত্ত্বাবধায়কের অনুপস্থিতি ও সাংবাদিক নির্যাতন। (Inqilab, Jugantor, Prothom Alo; জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন, তারিখ: ১৯/০২/২০২৪)
মাঠ পর্যায়ের বর্তমান চিত্র (২০২৫)
সরকারি ওষুধ বঞ্চনা
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪৫) বলেন—ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ লেখা থাকলেও হাসপাতাল থেকে পাইনি, বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
দালালদের দৌরাত্ম্য
মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে দালালরা রোগী সরিয়ে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। এক রোগীর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—দালালরা সরাসরি আমাদের কাছে এসে বলে এখানে সেবা ভালো হবে না, ওদের ক্লিনিকে যেতে হবে।
ডাক্তার অনুপস্থিতি ও অবহেলা
হাসপাতালের উপস্থিতি তালিকা (মে ২০২৫) অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ৩–৪ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত থেকেছেন, অথচ বেতন নিয়মিত তোলা হয়েছে।
মাদকাসক্তদের আড্ডা ও চুরি
Ekattor TV ও স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের পরিত্যক্ত করিডোরে রাতের বেলা মাদক সেবন হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দুইবার যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত।
পরিচ্ছন্নতার সংকট
BDNews24 প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদনে (তারিখ: ০৩/০৬/২০২৫) দেখা গেছে, হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহারের অযোগ্য, দুর্গন্ধ ও নোংরায় ভরা।
পূর্বের প্রকাশিত প্রতিবেদন ও উৎস
Sherpur Times – ২০১৯, অনুমোদনহীন ক্লিনিক
Jugantor – ২০২০ ও ২০২৪, ওষুধ দুর্নীতি ও ছাত্র আন্দোলন
DhakaTimes24 – ২০২৩, আইসিইউ অনিয়ম
Ekattor TV – ২০২৪, মাদক ও চুরি
BDNews24 – ২০২৪, পরিবেশ সংকট
Daily Inqilab – ২০২৪, সাংবাদিক নির্যাতন
Prothom Alo – ২০২৪, কর্মকর্তা পালিয়ে যাওয়া
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থানঃ
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হাসপাতাল প্রধানের সাথে একাধিকবার সরাসরি ও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রশাসনিক নথি, মাঠ পর্যায়ের সাক্ষ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন স্পষ্ট করে যে, শেরপুর সদর হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি বহু বছর ধরে চলে আসছে। সেবা নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, স্বচ্ছতা, এবং নিয়মিত জন-অডিট। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আস্থাহীনতা আরও গভীর হবে।






















