গোবিন্দগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের ১২ ইউপি চেয়ারম্যান, জনসেবায় ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ২২৩৯ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে পলাতক থেকেও পদে বহাল আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা । এতে করে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সেবা প্রত্যাশী। সাধারণ জনগণ ছাত্র-জনতার গণভ্যুত্থানে পদত্যাগ এবং দেশ ত্যাগ করে গত ৫ আগস্ট পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয় তৎকালীন ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার।
এরপরপরই আত্মগোপনে চলে যান নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা । ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা। ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২জন ইউপি চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। কিন্তু তারা ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক, তবুও স্বপদে বহাল রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা। ১২ ইউপি চেয়ারম্যানদের নামে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও, বৈষম্য ছাত্র জনতার উপর হামলা এবং জামায়াতের হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত রয়েছে।
বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও জামায়াতের দায়ের করা মামলায় বিভিন্ন সময় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজত পাঠিয়েছেন চার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে। তারা হলেন- উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মাসুদ আলম মন্ডল , মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেলা আ’লীগের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান , সাপমারা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য ইউনিয়ন আ’লীগের সহসভাপতি আবু তালেব ও কামদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি মোশাহেদ হোসেন চৌধুরী বাবলু। গ্রেফতার হয়ে জামিনে আসার পর আবারও একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় রয়েছেন আত্মগোপনে।
বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত অপর চেয়ারম্যানদের মধ্যে আসামীরা হলেন- উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপ, দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.র.ম শরিফুল ইসলাম জর্জ, শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সেকেন্দার আলী, কামারদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক তৌকির হাসান রচি, শালমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, নাকাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেলা আ’লীগের সদস্য সাজু খন্দকার ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের সদস্য আনিছুর রহমান শিবলু, গুমানিগঞ্জ চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মুরাদ, নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও বহাল তবিয়তে পদে আছেন এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৭টির মধ্যে ১২ জন ইউপি চেয়ারম্যান মামলার ভয়ে পলাতক থাকলেও তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে তারা নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষদের।
আ’লীগ সরকার পতনের পর বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। পরে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেও নতুন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার এড়াতে রয়েছেন পলাতক। তবে পলাতকরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায়, প্রশাসনের সঙ্গে ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমন্বয় করে নিজেদের স্বপদে বহাল রয়েছেন তারা। বর্তমানে অনেকটাই গোপনে মাঝে মধ্যে এসে কাগজপত্র স্বাক্ষর করছেন। নিজেদের পদে বহাল রাখলেও কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছেন না, এতে সাধারণ নাগরিকরা সঠিকভাবে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেছন না। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তারা বলেন, মামলা দায়েরের পর মাঝে মধ্যে গোপনে অফিসে এসে নথিপত্রে স্বাক্ষর করে ফের আত্মগোপনে চলে যান। এতে আমরা (সাধারণ নাগরিকরা) সঠিক সেবা পাচ্ছি না।
উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভার, উন্নয়ন সমন্বয় সভা ও আইন শৃঙ্খলা সভায় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও উপজেলা প্রশাসন এখনো তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই।
মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মাসিক সভায় আমরা সরাসরি অংশ নিই না, তবে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ইউপি সচিব উপস্থিত হন।
নাকাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাজু খন্দকার বলেন, কাগজপত্র সই করতে হলে ইউপি সচিব তার সঙ্গে দেখা করে তা করিয়ে নেন। এতে জনসাধারণের কোনো কাজ ব্যাহত হয়নি বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, কোন চেয়ারম্যান অফিস করেন না। ফলে জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে আর গোপনে থেকেও তাদের লুটপাট অব্যাহত রেখেছে তারা।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, অনুপস্থিত চেয়ারম্যানদের নিয়ে তার কাছে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। তিনি আর ও বলেন, শুনেছি কয়েকজন চেয়ারম্যান নাকি সম্মানী ভাতা নেন না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে উচ্চ মহলে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।






















