সারাদেশ
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ভাতিজার নেতৃত্বে সাংবাদিকের ওপর হামলা
- আপডেট সময় : ১২:১৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২১৯৫ বার পড়া হয়েছে
পেশাগত কাজে ব্যস্ত ছিলেন বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি রুবেল আহমেদ প্রিন্স (৩৫)। এ সময় পাশে একটি মাঠে ২-৩ জন মেয়েকে এক যুবক উত্যক্ত করছে দেখতে পান। এগিয়ে গিয়ে তার কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইতেই আশপাশে থাকা ২৫-৩০ জন জড়ো হয়ে অতর্কিতে রুবেলসহ তার সঙ্গের আরও তিনজনের ওপর হামলা চালান, লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিলে সেখানেও জড়ো হয়ে টেনে বের করে ফের হামলার চেষ্টা করে ওই আক্রমণকারীরা। জানা গেছে, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ওই যুবকের নাম রিমেল (২৪)। অভিযোগ রয়েছে, নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তিনি। রয়েছে “গ্যাং”।সাংবাদিকের ওপর রিমেলের এমন বেপরোয়া হামলার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। অবিলম্বে রিমেলসহ তার সঙ্গীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রুবেল ও সাভারের সাংবাদিক নেতারা। এ ঘটনায় রিমেলসহ চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রুবেল। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের কেপিজে হাসপাতালের সামনে ঘটে এ হামলার ঘটনা। ভুক্তভোগী রুবেল বলছেন, সন্ত্রাসী কায়দায় তার ওপর দলবদ্ধ হামলা করা হয়। হাসপাতালেও তারা হামলার চেষ্টা করে। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। জখম হন সঙ্গের আরও তিনজনও।
অপর আহতরা হলেন- সাইদুর রহমান (৩৫), ইয়াসিন আহমেদ (৩৬) ও শরীফুল ইসলাম (৩৫)। এদের মধ্যে সাইদুরের মাথা ফেটে যাওয়ায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।রুবেলের অভিযোগ, কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শরীফ ব্যাপারীর ভাতিজা রিমেল ও তার অনুসারীরা এ হামলায় নেতৃত্ব দেন।

কে এই রিমেল?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিমেল কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা একাধিক মামলার আসামি শরিফ ব্যাপারীর আপন বড় ভাই আরিফ ব্যাপারীর ছোট ছেলে।কা
শিমপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরিফ বেপারির রাজনৈতিক কর্মসূচির জনবল সরবরাহের কাজ করতো রিমেল। আর এই জনবলের প্রভাবেই ফুটপাতে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। কেপিজে হাসপাতালের বাইরে সওজের জমিতে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ভাড়া দিয়েছেন রিমেল। এছাড়া শরিফ বেপারির অবর্তমানে তার সব কিছু দেখভাল করছেন তিনি। না
ম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কাশিমপুর এলাকায় বিশাল গ্যাং পোষেন রিমেল। অন্তত শতাধিক লোক আছে তার দলে। এরমধ্যে অনেকেই কিশোর গ্যাংয়েরও সদস্য। ওই এলাকায় চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি, মারধরসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত রিমেল ও তার দলের সদস্যরা।
তবে এই বিষয়ে রিমেলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় গিয়েও রিমেলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই তিনি গা ঢাকা দেন বলে জানা গেছে।
যা বলছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুবেল
ভুক্তভোগী আহত সাংবাদিক রুবেল আহমেদ প্রিন্স জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়ক নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে পূর্ব পরিচিত সাইদুর রহমান, ইয়াসিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম ছিলেন। কাজের একপর্যায়ে রুবেল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের পাশেই একটি মাঠে এক যুবককে ২-৩ জন মেয়েকে উত্যক্ত করতে দেখেন। এরপর তিনি এগিয়ে গিয়ে উত্যক্তকারীর কাছে নারীদের উত্যক্তের কারণ জানতে চাইলে উত্যক্তকারীসহ ২৫-৩০ জন জড়ো হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে রুবেল ও তার সঙ্গে থাকা বাকি তিনজনকে এলোপাথাড়ি পেটায়। পরে আহত রুবেল, সাইদুর রহমান, ইয়াসিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে হামলাকারীরা পুনরায় হাসপাতালে এসে তাদের টেনে বাইরে বের করার চেষ্টা করেন। এসময় হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা হাসপাতালের ফটক আটকে দেন। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানার পুলিশ ও আশুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, “আমি তাকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করতেই অতর্কিতে আমার ওপর রিমেল হামলা করে। মুহূর্তেই সেখানে তার গ্যাংয়ের লোকজনও চলে আসে। পরে সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে এলে তারা হাসপাতালেও হামলার চেষ্টা করে।”
এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরাও। আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান নিপু বলেন, “সাংবাদিক রুবেল আহমেদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। পেশাদার অপরাধীরা জনসমক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। সাংবাদিক রুবেলের ওপর হামলাকারী রিমেল ও তার গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী হামলা এসবেরই প্রতিফলন। এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমাদের বিশ্বাস পুলিশ চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে অবশ্যই আইনের আওতায় আনবে।”
কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এক নারীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করায় সাংবাদিক রুবেল আহমেদ এর প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে রুবেলকে মারধর করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”






















