ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আনারসই বদলে দিতে পারে ফুলবাড়িয়া কৃষকদের অর্থনৈতিক চিত্র


মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ময়মনসিংহ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২২০৭ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে (ক্যালেন্ডার-জলডুগি-হানিকুন) জাতের আনারস। এতে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। প্রতি পিচ বড় আনারসের দাম ৪৫–৫০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট সাইজের গুলি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ২০ টাকা ধরে। তবে সব মিলিয়ে এই বছরে আনারসের দাম পেয়ে লাভবান হয়েছেন ফুলবাড়িয়া কৃষকরা।

অনেক সময় বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, যেমনটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ও রাঙামাটির অনেক কৃষককে লোকসানে পড়তে হয়েছে গত বছর। সরকার যদি সারের দামটা কমিয়ে দিতেন তাহলে একটু আমাদের জন্য ভালো হতো। আনারসের যে দাম আর সারের যে দাম এ দামে আমাদের আসলে পোষায় না। টাঙ্গাইল মধুপুর গারোবাজারে আনারস নিয়ে আসা কৃষক দুলাল মিয়া প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

আনারস চাষি বাবুল হোসেন বলেন, এক হাজার চারা রোপণ করলে মাত্র ৮শত চারা টিকে কিন্তু এক হাজার রোপণকৃত চারাগাছের যত্ন করা লাগে। নিয়মিত সার বিশ কামলা খাটাতে হয়। বর্তমান বাজারে ‘সারের দাম অনুযায়ী আনারসের দাম পোষায় না। গত বছরের চেয়ে এবার আনারসের দাম একটু বেশি পাওয়ায় তাও বিক্রি করা যাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আনারস ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। রাঙ্গামাটির বেলাল হক ৩০ টাকা দরে, কালাদহের গ্রামের বাসিন্দা আরিফুর ৪০ টাকা দরে, আশ্রা গ্রামের আশরাফ ৪৫ টাকা দরে প্রতিটি আনারস বিক্রি করেছেন। এবার লাভের মুখ দেখায় তাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠেছে।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়ক বেয়ে কৃষকরা সাইকেল, অটোরিক্সা, মহিষের গাড়ি ও ভ্যান রিক্সা, ট্রাক দিয়ে বাজারে আনারস নিয়ে আসছেন। অনেকেই রাস্তার পাশে সাড়িবদ্ধভাবে আনারস নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। অনেকেই আনারস কেনাবেচায় ব্যস্ত। কেউ কেউ আনারস কিনে স্তুপ করছেন। কেউবা উঠাচ্ছেন ট্রাকে। বিশাল কর্মযজ্ঞে কথা বলার সুযোগও তাদের কম।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, জিআই স্বীকৃতি পাওয়া আনারসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমরা কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। তিনি আরও বলেন, সকল গণমাধ্যম ও আনারস প্রেমিদের জন্যে বলতে চাই ফুলবাড়িয়ার যে আনারস চাষ হচ্ছে তা সম্পূর্ণ কেমিক্যাল মুক্ত এবং এই আনারস মধুর মতই স্বাদে ভরপুর। আনারস বিদেশে রপ্তানি করা এবং আনারস দিয়ে জেম, জেলিসহ নানা উপকরণ তৈরি করে বিপণনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এ নিয়ে কৃষি অধিদপ্তর কাজ করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

আনারসই বদলে দিতে পারে ফুলবাড়িয়া কৃষকদের অর্থনৈতিক চিত্র

আপডেট সময় : ০৩:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে (ক্যালেন্ডার-জলডুগি-হানিকুন) জাতের আনারস। এতে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। প্রতি পিচ বড় আনারসের দাম ৪৫–৫০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট সাইজের গুলি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ২০ টাকা ধরে। তবে সব মিলিয়ে এই বছরে আনারসের দাম পেয়ে লাভবান হয়েছেন ফুলবাড়িয়া কৃষকরা।

অনেক সময় বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, যেমনটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ও রাঙামাটির অনেক কৃষককে লোকসানে পড়তে হয়েছে গত বছর। সরকার যদি সারের দামটা কমিয়ে দিতেন তাহলে একটু আমাদের জন্য ভালো হতো। আনারসের যে দাম আর সারের যে দাম এ দামে আমাদের আসলে পোষায় না। টাঙ্গাইল মধুপুর গারোবাজারে আনারস নিয়ে আসা কৃষক দুলাল মিয়া প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

আনারস চাষি বাবুল হোসেন বলেন, এক হাজার চারা রোপণ করলে মাত্র ৮শত চারা টিকে কিন্তু এক হাজার রোপণকৃত চারাগাছের যত্ন করা লাগে। নিয়মিত সার বিশ কামলা খাটাতে হয়। বর্তমান বাজারে ‘সারের দাম অনুযায়ী আনারসের দাম পোষায় না। গত বছরের চেয়ে এবার আনারসের দাম একটু বেশি পাওয়ায় তাও বিক্রি করা যাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আনারস ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। রাঙ্গামাটির বেলাল হক ৩০ টাকা দরে, কালাদহের গ্রামের বাসিন্দা আরিফুর ৪০ টাকা দরে, আশ্রা গ্রামের আশরাফ ৪৫ টাকা দরে প্রতিটি আনারস বিক্রি করেছেন। এবার লাভের মুখ দেখায় তাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠেছে।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়ক বেয়ে কৃষকরা সাইকেল, অটোরিক্সা, মহিষের গাড়ি ও ভ্যান রিক্সা, ট্রাক দিয়ে বাজারে আনারস নিয়ে আসছেন। অনেকেই রাস্তার পাশে সাড়িবদ্ধভাবে আনারস নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। অনেকেই আনারস কেনাবেচায় ব্যস্ত। কেউ কেউ আনারস কিনে স্তুপ করছেন। কেউবা উঠাচ্ছেন ট্রাকে। বিশাল কর্মযজ্ঞে কথা বলার সুযোগও তাদের কম।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, জিআই স্বীকৃতি পাওয়া আনারসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমরা কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। তিনি আরও বলেন, সকল গণমাধ্যম ও আনারস প্রেমিদের জন্যে বলতে চাই ফুলবাড়িয়ার যে আনারস চাষ হচ্ছে তা সম্পূর্ণ কেমিক্যাল মুক্ত এবং এই আনারস মধুর মতই স্বাদে ভরপুর। আনারস বিদেশে রপ্তানি করা এবং আনারস দিয়ে জেম, জেলিসহ নানা উপকরণ তৈরি করে বিপণনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এ নিয়ে কৃষি অধিদপ্তর কাজ করছে।