এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশের যৌথ সভা: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও যুক্ত, গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের আহ্বান
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / ২১৪০ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়, বরং জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনতার ক্ষমতায়নই হতে হবে রাজনীতির মূল লক্ষ্য— রাজধানীর ফারইস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় বক্তারা এমন মত প্রকাশ করেছেন।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস—আপ বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনায় যোগ দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন-এর নেতারাও। সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল, আপ বাংলাদেশের আহবায়ক আলি আহসান জুনায়েদ, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আপ বাংলাদেশের সদস্য সচিব আরেফিন হিজবুল্লাহ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদার ভুইয়া প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ক্ষমতা নয়—জনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। অন্যথায় জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তারা ক্ষমা করবেন না।
মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে শহীদ কিশোর আনাসের চিঠি পাঠ করে শোনান এবং বলেন, “শহীদ আনাসসহ হাজারো তরুণ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য জীবন দেয়নি। বড় দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার কাঠামো টিকিয়ে রাখতে জুলাইকে ‘আন্দোলন’ বলছে, অথচ সেটি ছিল প্রকৃত অর্থে এক বিপ্লব।” তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক আলোচনায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “যেনতেন নির্বাচন নয়, জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন চ্যালেঞ্জ।”
সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “জুলাইয়ের শক্তিগুলোকে ভুল সংশোধন করে আবার রাজপথে নামতে হবে। আবু সাঈদসহ যেসব শহীদ জীবনের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না।”
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “জনগণের কাছেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। এবারের নির্বাচন সাধারণ নয়— এটি হবে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নির্বাচন।” তিনি আরও বলেন, “বিপ্লব আর বিলাস একসঙ্গে চলতে পারে না; অভ্যুত্থানের চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।”
অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল মনে করেন, “যদি এই উদ্যোগ জনতাকেন্দ্রিক জোটে রূপ নেয়, তবে এটি হবে এক নতুন মাইলফলক।”
আপ বাংলাদেশের আহবায়ক আলি আহসান জুনায়েদ বলেন, “ক্ষমতা ভাগাভাগির দৌড়ে অভ্যুত্থানের চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানই জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল।”
ডা. আব্দুল ওহাব মিনার আহ্বান জানান, “অভ্যুত্থানপন্থী সব শক্তিকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।”
আরেফিন হিজবুল্লাহ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মূলে ছিল জনগণের ক্ষমতায়নের দাবি। এখনো আমলাতান্ত্রিক জমিদারি টিকে আছে— সেটিই অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ।”
রাফে সালমান রিফাত বলেন, “রাতের আঁধারে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়।”
সভায় মজিবুর রহমান মঞ্জু তার স্বাগত বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জনতার কণ্ঠে যে শ্লোগান বারবার উচ্চারিত হয়েছিল— ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’— সেটিই আজও সংগ্রামী শক্তির দিকনির্দেশনা।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী আন্দোলনের শক্তিগুলোকে ভাঙতে ক্ষমতার লোভ দেখায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, শেষ পর্যন্ত জয় হয় জনতারই। জুলাই অভ্যুত্থান সেই সত্যকে আবারও প্রতিষ্ঠা করেছে।”




























