হাসিনাসহ ২৮৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা বিচারযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে
- আপডেট সময় : ০৬:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২২৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার একটি আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের জন্য মামলাটি অন্য আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিন মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, “জয় বাংলা ব্রিগেড” নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. এনামুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটে শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫৮ জন বর্তমানে পলাতক বলে আদালতে জানানো হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর আদালত পলাতক ২৬১ জন আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন।
বর্তমানে মামলার ২৮ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন অন্যতম।
চার্জশিটভুক্ত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ. কে. এম. আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, অ্যাডভোকেট এ. এফ. এম. দিদারুল ইসলাম, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ওই জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা “জয় বাংলা ব্রিগেড” নামে একটি সংগঠন গঠন করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের আহ্বান জানান। মোট ৫৭৭ জন দেশ-বিদেশ থেকে অনলাইনে মিটিংটিতে অংশ নেন।
সিআইডির তদন্তে দাবি করা হয়, মিটিংয়ে বৈধ সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনা হয়, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের উপাদান বহন করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে তিনি একই বছরের ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।


























