নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ॥ সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
১৩ নভেম্বর ঘিরে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
- আপডেট সময় : ০১:১৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৪৬ বার পড়া হয়েছে
আগামীকাল ১৩ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে, জনাকীর্ণ স্থানে, পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একের পর এক এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে ঢাকা শহরকে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে টহল বাড়ানো হয়েছে। কেপিআইগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে খোলা তেল বিক্রি বন্ধসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীতে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থাকবেন অন্তত ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রাজনৈতিক কার্যালয় ও কৌশলগত মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকেও বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
রাজধানীতে মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে পুলিশের তল্লাশি। যে কাউকে সন্দেহ হলেই থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। অভিযান চালানো হচ্ছে হোটেল, ব্যাচেলর মেসগুলোতে। র্যাবের ৭০টি টহল টিম রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় টহল বৃদ্ধি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে র্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিট।
সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নয় ॥ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে শক্ত অবস্থানের জন্য আমাদের প্যাট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। কেপিআইগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে খোলা তেল বিক্রি বন্ধসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই আমাদের পুলিশকে সবাই সেটা জানান। ঢাকায় আটটি জোনে বিভক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা আছে।
উপদেষ্টা বলেন, বাসে আগুন এবং কয়েক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, এটা সত্য কথা। এগুলো যেন আর না করতে পারে এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এগুলো করছে তারা দুষ্কৃতকারী। এদের প্রতিহত করার দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়, বরং রাজনৈতিক দল, সচেতন জনগণ এবং আপনাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে আপনারা এগিয়ে আসবেন- আমার অনুরোধ।
নির্বাচনে কোন বাহিনীর কতজন সদস্য থাকবেন, এটা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, শেষ মুহূর্তের আগে এটা বলা যাবে না। তবে সম্ভাব্য বিষয় হচ্ছে দেড় লাখ পুলিশ থাকবে, প্রায় এক লাখ সেনা সদস্য, ৩৫ হাজার বিজিবি, সাড়ে ৫ লাখ আনসার সদস্য এবং চার হাজারের মতো নৌবাহিনীর সদস্যরা থাকবে।
কয়েক দিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজসহ নেতাদের পেজে ১৩ নভেম্বর ‘লকডাউন’ কর্মসূচি পালনের কথা বলা হচ্ছে। পুলিশও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তাদের কর্মসূচি প্রতিহত করতে ঢাকায় অভিযান ও তল্লাশি চালাচ্ছে। এরই মধ্যে চোরাগোপ্তা হামলার কয়েকটি ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে শাহজাদপুর ও মেরুল বাড্ডায় বাসে আগুনের খবর শুনে দিন শুরু করেছিলেন নগরবাসী। কাছাকাছি সময়ে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আরও দুই জায়গায়। এরপর রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত সাত জায়গায় হাতবোমা হামলা ও তিনটি বাসে অগ্নিকা-ের খবর এসেছে।
মঙ্গলবার সকালে হাতিরঝিল এলাকায় ইস্পাহানী বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রমনার কাকরাইলে সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল গির্জার ফটকে দুটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর ঠিক সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত আড়াইটার দিকে মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ভেতরেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, ডেমরা ও ধানমন্ডিতে বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় জনমনে নতুন করে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ১৩ নভেম্বর কি হতে যাচ্ছে, এমন প্রশ্ন মুখে মুখে।
কল্যাণপুরের বাসিন্দা ইয়ামিন বলেন, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসযোগে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস আগুনে পুড়তে দেখা যায়। পরে শুনেছি, কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আরও কয়েকটি বাসে আগুন ও কয়েক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর দেখলাম। হঠাৎ করে এমন হচ্ছে কেন? এসব কি আরও বাড়বে? এমন হলে তো ঘর থেকে বের হওয়া দায়।
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আকলিমা খাতুনের বড় মেয়ে নিপা স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। প্রতিদিন সকালে তিনি মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসেন। কাজের ব্যস্ততায় দুপুরে আনতে পারেন না। বেশির ভাগ সময় সহপাঠীদের সঙ্গেই বাসায় ফিরে নিপা। কিন্তু ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগের খবরে আকলিমার মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কে কখন, কোন দিক দিয়ে ককটেল ফাটায় আর সেই ককটেল না জানি মেয়ের গায়ে এসে পড়ে। এমন ভয়ে একেবারে প্রয়োজন ছাড়া পরিবারের কেউ বাসার বাইরে যান না বলে জানান আকলিমা।
মিরপুর থেকে সদরঘাটগামী বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসের চালক সুমন শেখের মনেও আতঙ্ক। কেননা, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। কখন কি হয়ে যায় সেই উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রতিনিয়ত বাস চালাচ্ছেন তার মতো শত শত চালক। সুমন বলেন, ২০১৫ সালে ঢাকা শহরে পেট্রোল বোমা হামলার ভয়াবহতা এখনো স্মৃতিতে ভেসে ওঠে। পেটের দায়ে আতঙ্ক নিয়ে বাস চালাতাম। আবারও কি সে রকম শুরু হয়েছে। চারদিকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ ও র্যাব। হাইকোর্ট মোড় এলাকায়, শাহবাগ, নিউ ইস্কাটন, বিজয় সরণি, সংসদ ভবন এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট দেখা গেছে। এসব চেকপোস্টে কাউকে সন্দেহ হলেই মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিক্সা থামার সিগন্যাল দিচ্ছে। এরপর এসব বাহনের যাত্রীদের গন্তব্য জানতে চাওয়া যায়। সঙ্গে থাকা ব্যাগও তল্লাশি করা হয়।
দেখতে চাওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র ও অফিসের আইডি কার্ড। শুধু তাই নয়; নগরীর প্রবেশ পথগুলোতে বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, বংশাল, সদরঘাট, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ-বছিলা, গাবতলী, রামপুরা, দক্ষিণ বনশ্রী, বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরার সড়কে একাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। এক বাইকে দুজন দেখলেই দাঁড় করাচ্ছে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, যাত্রাবাড়ী ঢাকার অন্যতম একটি প্রবেশ পথ। তাই উপরের নির্দেশে একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এতে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে দায়িত্বরতদের নির্দেশ দেওয়া আছে।
ডিএমপির একাধিক ওসি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঢাকামুখী যাত্রা ঠেকাতে উপর থেকে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তারা প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানো ছাড়াও আবাসিক হোটেল, মেসে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কেননা, বিগত সময় ঝটিকা মিছিল থেকে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছে।
আটটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা ছক প্রণয়ন করেছে ডিএমপি। এসব সেক্টরে মোতায়েন করা হয়েছে ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য। প্রণয়ন করা হয়েছে মোবাইল প্যাট্রোল, ফুট প্যাট্রোল ও তদারকি ব্যবস্থাপনা। ৬৬ জনকে নিযুক্ত করা হয়েছে রাত্রিকালীন তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে। তারা সহকারী কমিশনার (এসি) থেকে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে আছেন ডিএমপির কমিশনারসহ ছয়জন অতিরিক্ত কমিশনার। এ পরিকল্পনা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ॥ ঢাকা মহানগরীর চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকে ঢাকা মহানগর পুলিশ। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, কিছুদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রচেষ্টা করছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে। গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল সদৃশ্য বস্তু নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোসহ আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, ১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরু থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ১৫ স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০ জনকে।
কমিশনার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার অপচেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ১৪টি ঝটিকা মিছিল করে তারা এবং স্বল্পস্থায়ী এসব ঝটিকা মিছিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে পাওয়া তথ্য এবং পরিচয় যাচাই করে দেখা যায়, তাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরে থেকে আসা। অর্থের বিনিময়ে তারা ঢাকায় এসে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করে এবং আবার ঢাকার বাইরে চলে যায়।
গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হেলমেট ও মাস্ক পরে তারা ভোর বা দিনের ব্যস্ত সময়ে টার্গেটকৃত স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা এই কাজে অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও ব্যবহার করছে।
রাজধানীবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থায় যেন কোনো অপরিচিত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া না হয়। মেস, হোটেল, গেস্ট হাউজে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে বোর্ডার ওঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি। এ ছাড়া নিজ নামীয় মোটরসাইকেল বা যানবাহন অন্য কাউকে দেওয়ার আগে বা ভাড়া দেওয়ার আগে কোনো দুর্বৃত্তের হাতে চলে যাচ্ছে কি না দৃষ্টি রাখবেন। আপনাদের এলাকায় কোনো আগন্তুক দেখলে বা সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করতে দেখলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা ৯৯৯ এ অবহিত করার অনুরোধ করছি।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই আপনাদের যানবাহন অরক্ষিত অবস্থায় রাখবেন না। কেননা গত দুই দিনে যেসব যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, অধিকাংশই রাতে রাস্তায় অরক্ষিতভাবে পার্ক করা ছিল। বাসের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কোনো লোক ছিল না। অরক্ষিত এসব বাসেই তারা আগুন দিয়েছে। আর যেসব বাসে যাত্রী কম, এমন বাস তারা টার্গেট করেছে। যাত্রীভর্তি বাস তারা টার্গেট করেনি। তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আমরা স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছি। আজকে যারা সুপরিকল্পিতভাবে নাশকতার চেষ্টা করছে, তা প্রতিরোধের জন্য আমরা জনগণের সহায়তা চাই। এদেশের জনগণ, ঢাকাবাসী স্বৈরাচার পতনে ভূমিকা রাখে। যে ধরনের নাশকতা কর্মকা- শুরু হয়েছে, তাদের প্রতিহত করবে ঢাকাবাসী। আমরা ঢাকাবাসীর সঙ্গে আছি।
র্যাবের প্রস্তুতি ॥ র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে র্যাব সদর দপ্তর থেকে ১৫টি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকবল নিয়ে মাঠে রয়েছে। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল, সিএনজি বা ইজিবাইকে করে কেউ যাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের ৭০টি টিম ঢাকা শহরে ও আশপাশের এলাকায় টহলে নিয়োজিত রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।
কোন কোন সময় চোরাগোপ্তা হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়, সেই সময়ও আমরা নির্ধারণ করেছি। সেই আলোকে আমাদের টিম মাঠে তৎপর রয়েছে। যে কোনো ধরনের গুজব, প্রোপাগান্ডা রুখতে সাইবার মনিটরিং টিম তৎপর রয়েছে। যাতে তাৎক্ষণাৎ যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের অপতৎপরতা রুখতে র্যাব প্রস্তুত রয়েছে।


























