ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বাজেয়াপ্তের আদেশ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১৮০ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর অনেকেই জানতে চাইছেন, দুজনের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কত ছিল। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় শেখ হাসিনা (গোপালগঞ্জ–৩) ও আসাদুজ্জামান খান কামাল (ঢাকা–১২) নির্বাচন কমিশনে যেসব হলফনামা জমা দেন, সেখান থেকেই তাঁদের সম্পদের তথ্য জানা যায়।

শেখ হাসিনার সম্পদ
হলফনামা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার তথ্য দেন।

  • হাতে নগদ টাকা ছিল ২৮ হাজার ৫০০ টাকার মতো।
  • ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
  • সঞ্চয়পত্র ২৫ লাখ ও স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ৫৫ লাখ টাকা।
  • দুইটি মোটরগাড়ির দাম দেখানো হয় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা; আরেকটি উপহার পাওয়া গাড়ির দাম উল্লেখ করা হয়নি।
  • সোনা ও মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

তিনি গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, গাজীপুর ও রংপুরে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি দেখিয়েছিলেন, যার ক্রয়মূল্য উল্লেখ ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

গাজীপুরের মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় পরিবারিক বাগানবাড়ির জমি—মোট ২৯৭ শতক—উত্তরাধিকার সূত্রে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তাঁদের সন্তানদের নামে রয়েছে বলে ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়।

হলফনামায় আরও উল্লেখ ছিল যে পূর্বাচলে তাঁর নামে একটি প্লট আছে, যার মূল্য ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা, তাঁর দুই সন্তান এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ মোট ছয়জনকে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এসব বরাদ্দ নিয়ে দুদকের মামলা চলছে।

টুঙ্গিপাড়ায় ৬ দশমিক ১০ শতক জমি ও তিনতলা ভবনের অর্জনমূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

দুদক ২০২৪ সালের মে মাসে জানায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনা স্থাবর সম্পদের তথ্য অসত্যভাবে প্রদান করেছিলেন বলে তাদের তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। দুদকের দাবি, সে সময় তাঁর নামে ঘোষিত ৬.৫ একরের পরিবর্তে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি জমি ছিল।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে রয়েছে। আর সুধা সদন—শেখ হাসিনার বাসভবন—সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের মালিকানাধীন।

আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ
ঢাকা–১২ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামায় আসাদুজ্জামান খান কামাল হাতে নগদ প্রায় ৮৪ লাখ টাকা দেখান।

  • ব্যাংকে জমা ৮২ লাখ টাকা
  • বন্ড ও শেয়ার প্রায় ২৪ লাখ টাকা
  • ডাকঘর ও সঞ্চয়পত্রসহ স্থায়ী আমানত ২ কোটি ১ লাখ টাকা
  • দুইটি মোটরগাড়ির দাম দেখানো হয় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা
  • ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র ২ লাখ টাকা
  • ব্যবসায়িক ঋণ বাবদ মূলধন দেখানো হয়েছিল ২ কোটি ২০ লাখ টাকা
  • সোনা ছিল ১০ ভরি, তবে মূল্য উল্লেখ করা হয়নি

কৃষিজমি ছিল ১৭১ শতাংশ (৫ বিঘার বেশি), যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা। অকৃষিজমি ছিল ১৮.৫ শতাংশ, মূল্য ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দুটি ভবনের মধ্যে একটি গ্রামের বাড়ি—এর মূল্য ৮০ লাখ টাকা; আরেকটির মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা (সোনার মূল্য বাদে)।

দুদক জানিয়েছে, তাঁরা আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।

রায়ের নির্দেশনা
গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা এবং পরে ভারতে অবস্থান নেন। আসাদুজ্জামান খানও ভারতে আছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। আদালত রায়ে অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জুলাই শহীদদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে রায়ের কপি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বাজেয়াপ্তের আদেশ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর অনেকেই জানতে চাইছেন, দুজনের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কত ছিল। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় শেখ হাসিনা (গোপালগঞ্জ–৩) ও আসাদুজ্জামান খান কামাল (ঢাকা–১২) নির্বাচন কমিশনে যেসব হলফনামা জমা দেন, সেখান থেকেই তাঁদের সম্পদের তথ্য জানা যায়।

শেখ হাসিনার সম্পদ
হলফনামা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার তথ্য দেন।

  • হাতে নগদ টাকা ছিল ২৮ হাজার ৫০০ টাকার মতো।
  • ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
  • সঞ্চয়পত্র ২৫ লাখ ও স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ৫৫ লাখ টাকা।
  • দুইটি মোটরগাড়ির দাম দেখানো হয় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা; আরেকটি উপহার পাওয়া গাড়ির দাম উল্লেখ করা হয়নি।
  • সোনা ও মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

তিনি গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, গাজীপুর ও রংপুরে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি দেখিয়েছিলেন, যার ক্রয়মূল্য উল্লেখ ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

গাজীপুরের মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় পরিবারিক বাগানবাড়ির জমি—মোট ২৯৭ শতক—উত্তরাধিকার সূত্রে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তাঁদের সন্তানদের নামে রয়েছে বলে ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়।

হলফনামায় আরও উল্লেখ ছিল যে পূর্বাচলে তাঁর নামে একটি প্লট আছে, যার মূল্য ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা, তাঁর দুই সন্তান এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ মোট ছয়জনকে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এসব বরাদ্দ নিয়ে দুদকের মামলা চলছে।

টুঙ্গিপাড়ায় ৬ দশমিক ১০ শতক জমি ও তিনতলা ভবনের অর্জনমূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

দুদক ২০২৪ সালের মে মাসে জানায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনা স্থাবর সম্পদের তথ্য অসত্যভাবে প্রদান করেছিলেন বলে তাদের তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। দুদকের দাবি, সে সময় তাঁর নামে ঘোষিত ৬.৫ একরের পরিবর্তে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি জমি ছিল।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে রয়েছে। আর সুধা সদন—শেখ হাসিনার বাসভবন—সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের মালিকানাধীন।

আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ
ঢাকা–১২ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামায় আসাদুজ্জামান খান কামাল হাতে নগদ প্রায় ৮৪ লাখ টাকা দেখান।

  • ব্যাংকে জমা ৮২ লাখ টাকা
  • বন্ড ও শেয়ার প্রায় ২৪ লাখ টাকা
  • ডাকঘর ও সঞ্চয়পত্রসহ স্থায়ী আমানত ২ কোটি ১ লাখ টাকা
  • দুইটি মোটরগাড়ির দাম দেখানো হয় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা
  • ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র ২ লাখ টাকা
  • ব্যবসায়িক ঋণ বাবদ মূলধন দেখানো হয়েছিল ২ কোটি ২০ লাখ টাকা
  • সোনা ছিল ১০ ভরি, তবে মূল্য উল্লেখ করা হয়নি

কৃষিজমি ছিল ১৭১ শতাংশ (৫ বিঘার বেশি), যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা। অকৃষিজমি ছিল ১৮.৫ শতাংশ, মূল্য ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দুটি ভবনের মধ্যে একটি গ্রামের বাড়ি—এর মূল্য ৮০ লাখ টাকা; আরেকটির মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা (সোনার মূল্য বাদে)।

দুদক জানিয়েছে, তাঁরা আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।

রায়ের নির্দেশনা
গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা এবং পরে ভারতে অবস্থান নেন। আসাদুজ্জামান খানও ভারতে আছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। আদালত রায়ে অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জুলাই শহীদদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে রায়ের কপি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।