সংবিধান সংশোধনের পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের হাতে কতটা ক্ষমতা হলো
- আপডেট সময় : ১২:১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ২০৯৬ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন দেশটির আইনের আওতার বাইরে। সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে শাহবাজ শরিফ সরকার তাঁকে আজীবন যেকোনো অপরাধ বা প্রশাসনিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এটি পাকিস্তানের গণতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়; আর সমর্থকেরা বলছেন, সামরিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনতে এটি জরুরি ছিল।
দীর্ঘ বিতর্কের পর গত বুধবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সংশোধনী বিলটি অনুমোদন করে। পরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এতে স্বাক্ষর করেন। নতুন আইনে সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান–ব্যাখ্যার ক্ষমতা কমিয়ে একটি কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক আদালত (এফসিসি) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টই এই আদালতের বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। সমালোচকেরা মনে করছেন, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মানবাধিকার কমিশনের উপপ্রধান ও সাংবাদিক মুনিজায়ে জাহাঙ্গীর বলেন, পাকিস্তানে বেসামরিক ও সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য ভেঙে গেছে; নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় সময়ে উল্টো সামরিক বাহিনী আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে। একই মত প্রকাশ করেন রাজনীতিবিশ্লেষক আরিফা নূরও। তাঁদের মতে, নতুন কাঠামোয় আদালত প্রশাসনের প্রতি আরও অনুগত হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা’ এখন সামরিক প্রাধান্য–নির্ভর নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, সংশোধনীটি সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত।
নতুন আইনে আসিম মুনির শুধু সেনাপ্রধান নন, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এ বছর তিনি পাঁচ তারকার মর্যাদায় উন্নীত হন—পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে। তাঁর ফিল্ড মার্শাল পদ, পোশাক ও মর্যাদা আজীবন বহাল থাকবে।
এ ছাড়া অবসরের পরও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে তাঁকে নিয়োজিত রাখা যাবে, যা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে নির্ধারিত হবে।
সরকার বলছে, এসব পরিবর্তন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আধুনিক যুদ্ধের উপযোগী করতে প্রয়োজন ছিল। তবে সমালোচকেরা একে স্পষ্টভাবে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হিসেবে দেখছেন।
নতুন সাংবিধানিক আদালত গঠনকে কেন্দ্র করে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুতগতির যুক্তিও বহু আইনজীবী প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, মামলার জট সুপ্রিম কোর্টে নয়, বরং নিম্ন আদালতগুলোতেই বেশি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সত্যিই যদি বিচারব্যবস্থার গতি বাড়ানো লক্ষ্য হতো, তবে সংস্কার শুরু করতে হতো সেই আদালতগুলো থেকেই।



























