কিবরিয়া হত্যা মামলায় শুটার জনির সঙ্গে ৩০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল বলে জানিয়েছে র্যাব
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১১২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার নির্দেশ আসে ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে—এমন তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী পাতা সোহেল ও বুকপোড়া সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডটির বিস্তারিত বেরিয়ে এসেছে।
র্যাব জানায়, হত্যার পর থেকেই পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার রাতভর আশুলিয়ার বিরুলিয়া এবং টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে পাতা সোহেল ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়—শুটার জনি, কাল্লু ও রোকনকে ভাড়া করেছিল পাতা সোহেল। ৩০ হাজার টাকায় ‘কিলিং মিশন’-এর চুক্তি হয়; এর মধ্যে ১ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রও সরবরাহ করে সোহেল। পুরো ঘটনাটি পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন ভাগিনা মাসুম।
র্যাব-৪ অধিনায়ক বলেন, একসময় কিবরিয়ার সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও ৫ আগস্টের পর সম্পর্ক খারাপ হয়। রাজনৈতিক আধিপত্য, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।
গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পল্লবীর একটি হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গোলাম কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। জনতার ধাওয়া খেয়ে শুটার জনি ভূঁইয়াকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরদিন কিবরিয়ার স্ত্রী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।
দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—কিবরিয়া দোকানে প্রবেশ করার কয়েক সেকেন্ড পরই হেলমেট ও মুখোশ পরা দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দোকানে তখন ৯ জন উপস্থিত ছিলেন। আতঙ্কে সবাই বেরিয়ে যান। কিবরিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও কাছ থেকে আরও কয়েকটি গুলি করে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মোটরসাইকেলে আসা দুজন পালানোর সময় জনতার ধাওয়া খেয়ে একটি অটোরিকশায় উঠতে যায়। একজনকে আটক করা সম্ভব হলেও আরেকজন গুলি করতে করতে সরে যায়। দ্রুত অটোরিকশাটি না চালানোয় চালককেও গুলি করে তারা। আহত চালককে ঢামেকে ভর্তি করা হয়েছে। আর গুরুতর আহত কিবরিয়াকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।






















