বেলেমের কপ৩০-এ ন্যায়ভিত্তিক জলবায়ু কার্যক্রমের আহ্বান বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১০৪ বার পড়া হয়েছে
ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ৩০ বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে ন্যায়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক সংহতির ভিত্তিতে জলবায়ু কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার সম্মেলনের জাতীয় বিবৃতি উপস্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ।
জাতীয় বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট এখন অপরিবর্তনীয় ক্ষতি, আস্থা সংকট ও বহুপাক্ষিকতার চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন কোনো তাত্ত্বিক ধারণা নয়—বরং ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভাঙনে প্রতিদিন বাস্তুচ্যুতি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির বাস্তবতা।
তিনি জানান, জলবায়ু ঝুঁকির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক দায়িত্ব বাংলাদেশকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলেছে। এতে স্পষ্ট হয় যে জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বোঝা বাড়ায়।
এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়টিও উপস্থাপন করেন তিনি। জানান, বৈশ্বিক নিঃসরণে মাত্র ০.৫ শতাংশের কম অবদান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নেতৃত্ব প্রদর্শন করছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। পাশাপাশি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন কার্যক্রমে বড় বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন ও সহজলভ্য প্রযুক্তি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো টিকে থাকতে পারবে না। সীমিত বাজেট থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যয় করতে হওয়ায় স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলে।
বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি—
১) ন্যায়ের ভিত্তিতে জলবায়ু কার্যক্রম মূল্যায়ন ও আইসিজের মতামতকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর,
২) সরকারি অর্থায়ন ও অভিযোজন অর্থায়ন বছরে কমপক্ষে ১২ হাজার কোটি ডলারে উন্নীতকরণ,
৩) অনুদানভিত্তিক অভিযোজন অর্থায়ন বৃদ্ধি ও ক্ষয়ক্ষতি তহবিল দ্রুত কার্যকর করা,
৪) স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানে বিনিয়োগ—বিশেষ করে সুন্দরবন সংরক্ষণ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও কমিউনিটি-ভিত্তিক বন্যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা।
তিনি আরও সতর্ক করেন, জলবায়ু উদ্যোগের রাজনীতিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ পরিস্থিতিকে জটিল করেছে এবং প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নকে বিলম্বিত করছে।
বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, কপ৩০ হয় জলবায়ু বিপর্যয়ের দিকে আরেকটি হারানো সুযোগ হয়ে থাকবে, নতুবা এটি নতুন দিশা দেখাবে। “বেলেমে সাহস জাগুক, ন্যায় সামনে থাকুক, আর শুরু হোক সম্মিলিত উদ্যোগ—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে।”



























