ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত–পাকিস্তান সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র পরীক্ষা করেছে চীন—মার্কিন প্রতিবেদনের দাবি


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১০৩ বার পড়া হয়েছে

প্রতীকী ছবি

চীন গত মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সংঘাতকে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ‘পরীক্ষা ও প্রচারের’ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে দ্বিদলীয় মার্কিন কমিশন ইউএস–চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশন। মঙ্গলবার প্রকাশিত কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ তোলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চার দিনের ওই সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং তাদের আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা ও প্রচারণা চালায়। ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা এবং সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা শিল্পের লক্ষ্যের সঙ্গে এ পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।

কমিশন দাবি করেছে, এই সংঘর্ষে চীনের উন্নত অস্ত্র—এইচকিউ–৯ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, পিএল–১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং জে–১০ যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো সক্রিয় যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, যা কার্যত ‘মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা’ হিসেবে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে চীন জুন মাসে পাকিস্তানকে জে–৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের ৪০টি যুদ্ধবিমান, কেজে–৫০০ বিমান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব দেয়।

কমিশনের শুনানি, গবেষণা, উন্মুক্ত তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কয়েক সপ্তাহ পর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত চীনা দূতাবাসও তাদের অস্ত্রব্যবস্থার ‘সাফল্য’ তুলে ধরে প্রচারণা চালায়, যা অস্ত্র রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেই ছিল।

তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে, সংঘাতটিকে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বলা হলে চীনের ভূমিকা অতিরঞ্জিত হয়ে যাবে।

রাফাল ঘিরে ‘ভুয়া তথ্য প্রচার’-এর অভিযোগ
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের পর ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানকে হেয় করার জন্য চীন ‘ভুয়া তথ্য প্রচার’ চালিয়েছে। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে কমিশন দাবি করে, বেইজিং তাদের জে–৩৫ বিমানকে শ্রেষ্ঠ দেখাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এআই-নির্মিত বা ভিডিও গেমের ছবি ছড়িয়ে দেয় এবং সেগুলোকে রাফাল ধ্বংসের দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করে।

এমনকি, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা ইন্দোনেশিয়াকে রাফাল কেনার প্রক্রিয়া স্থগিত করতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।

তবে চীন এসব অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং কমিশনের প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া তথ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘এই কমিশন সবসময় আদর্শগত বিদ্বেষ থেকে চীনবিরোধী কথাবার্তা বলে। তাদের বক্তব্যের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’

ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের প্রেক্ষাপট
কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্রগোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে ওঠে। ভারত অভিযোগ করে, হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে; তবে ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে।

৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালায় এবং পাকিস্তানও পাল্টা আঘাত হানে। টানা চার দিন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁর মধ্যস্থতায় দুই দেশ ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকার এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দুদেশ সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ভারত–পাকিস্তান সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র পরীক্ষা করেছে চীন—মার্কিন প্রতিবেদনের দাবি

আপডেট সময় : ০৭:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

চীন গত মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সংঘাতকে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ‘পরীক্ষা ও প্রচারের’ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে দ্বিদলীয় মার্কিন কমিশন ইউএস–চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশন। মঙ্গলবার প্রকাশিত কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ তোলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চার দিনের ওই সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং তাদের আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা ও প্রচারণা চালায়। ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা এবং সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা শিল্পের লক্ষ্যের সঙ্গে এ পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।

কমিশন দাবি করেছে, এই সংঘর্ষে চীনের উন্নত অস্ত্র—এইচকিউ–৯ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, পিএল–১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং জে–১০ যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো সক্রিয় যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, যা কার্যত ‘মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা’ হিসেবে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে চীন জুন মাসে পাকিস্তানকে জে–৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের ৪০টি যুদ্ধবিমান, কেজে–৫০০ বিমান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব দেয়।

কমিশনের শুনানি, গবেষণা, উন্মুক্ত তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কয়েক সপ্তাহ পর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত চীনা দূতাবাসও তাদের অস্ত্রব্যবস্থার ‘সাফল্য’ তুলে ধরে প্রচারণা চালায়, যা অস্ত্র রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেই ছিল।

তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে, সংঘাতটিকে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বলা হলে চীনের ভূমিকা অতিরঞ্জিত হয়ে যাবে।

রাফাল ঘিরে ‘ভুয়া তথ্য প্রচার’-এর অভিযোগ
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের পর ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানকে হেয় করার জন্য চীন ‘ভুয়া তথ্য প্রচার’ চালিয়েছে। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে কমিশন দাবি করে, বেইজিং তাদের জে–৩৫ বিমানকে শ্রেষ্ঠ দেখাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এআই-নির্মিত বা ভিডিও গেমের ছবি ছড়িয়ে দেয় এবং সেগুলোকে রাফাল ধ্বংসের দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করে।

এমনকি, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা ইন্দোনেশিয়াকে রাফাল কেনার প্রক্রিয়া স্থগিত করতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।

তবে চীন এসব অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং কমিশনের প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া তথ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘এই কমিশন সবসময় আদর্শগত বিদ্বেষ থেকে চীনবিরোধী কথাবার্তা বলে। তাদের বক্তব্যের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’

ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের প্রেক্ষাপট
কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্রগোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে ওঠে। ভারত অভিযোগ করে, হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে; তবে ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে।

৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালায় এবং পাকিস্তানও পাল্টা আঘাত হানে। টানা চার দিন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁর মধ্যস্থতায় দুই দেশ ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকার এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দুদেশ সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়।