ক্ষমতা কিংবা আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১২৩ বার পড়া হয়েছে
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘গুঞ্জন ও মিথ্যা সংবাদ’ ছড়িয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এনসিপি এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায় এবং ক্ষমতা বা আসন পাওয়ার লোভে কোনো সমঝোতায় যাবে না। এমনকি একটি আসনও না পেলেও দল তাদের আদর্শ ও নীতিতে অটল থাকবে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬–২০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ শেষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। সংবাদ সম্মেলনের পর একই স্থানে ৩০০ আসনের জন্য মনোনয়ন নেওয়া ১ হাজার ৪৮৪ জন প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এনসিপিকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁরা পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দল এককভাবেই নির্বাচন করতে চায় এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনগণের কাছে যাবে। তবে তাঁদের ইশতেহার ও আদর্শের সঙ্গে কোনো দল একমত হলে নীতিগত আলোচনার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু ক্ষমতা বা আসন ভাগাভাগির মতো কোনো সমঝোতা তারা করবে না।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা যদি কোনো জোট বা আলোচনায় যাই, তা খোলামেলাভাবে জনসমক্ষে বলব। এখানে গোপন কিছু নেই। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম আলাপ-আলোচনাকে পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক–অনানুষ্ঠানিক সংলাপ চলছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ।’’
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে দর-কষাকষির মাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক দল এখন পরস্পরের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তারা ‘ভাগ-বাঁটোয়ারা ও সাজানো নির্বাচন’ করতে চাইছে, যা দেশের গণতন্ত্র ও সাম্প্রতিক গণ-আকাঙ্ক্ষাকে নষ্ট করবে। এনসিপি এ ধরনের বন্দোবস্তের নির্বাচনের বিরোধিতা করবে।
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’
আসন্ন নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে জবরদখল, প্রশাসনের ব্যবহার, কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব নতুন নয়। ফ্যাসিবাদী সময় তো মানুষ ভোট দিতেও যেতে পারেনি। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসনের শক্ত অবস্থান প্রয়োজন, যা এখনও দৃশ্যমান নয়। বরং কিছু দল প্রকাশ্যে প্রশাসন দখলের কথা বলছে।
সরকার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানান যাতে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আজ এবং আগামীকাল চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। নাহিদ ইসলাম জানান, প্রার্থীদের যোগ্যতা, স্বপ্ন ও পরিকল্পনা শুনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হবে। রাজনৈতিক পর্ষদ চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে এবং যাচাই-বাছাই শেষেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
‘মার্কা দেখে ভোট দেওয়ার সময় শেষ’
দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, তাঁদের বিতরণ করা মনোনয়নপত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৪—প্রতি আসনে গড়ে পাঁচজন করে প্রার্থী। অনলাইনে ৭২৩ ও অফলাইনে ৭৬১ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। বিভাগভিত্তিক ১০টি বোর্ডে সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে।
দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, শুধু দল ও প্রতীকের ওপর নির্ভর করে ভোট দেওয়ার দিন শেষ। ভোটাররা এখন বয়স, মুখচেনা মার্কা বা পুরোনো দলের প্রতি সীমাবদ্ধ থাকবেন না।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা বলেন, ‘‘আমরা রাজনীতিতে নতুন ধারা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি আনতে চাই।’’
সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদুল ইসলাম, আতিক মুজাহিদ, আবদুল্লাহ আল আমিন, মো. আতাউল্লাহসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




























