টাঙ্গাইলের ৮টির মধ্যে ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি, আলোচনায় সিদ্দিকী পরিবার
- আপডেট সময় : ০৩:২২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৮৭ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন দলের একাংশের নেতা–কর্মীরা। মনোনয়ন না বদলালে ‘স্বতন্ত্র’ বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যেই দলের ঘোষিত প্রার্থীরা অনুসারীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
দুটি আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী–সমর্থকদের সরব তৎপরতা বিএনপির জন্য চাপ তৈরি করতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন অবশ্য মনে করেন, মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষোভ সাময়িক, বিষয়টি শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আগেই আটটি আসনে প্রার্থী ঠিক করে প্রচারে নেমেছে। জেলা সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, প্রচারণায় মানুষের ভালো সাড়া মিলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস—সব দলই বিভিন্ন আসনে প্রার্থী নিয়ে সক্রিয় রয়েছে।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী)
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন)। একই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুল ইসলামকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে; তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
জামায়াতের প্রার্থী মোন্তাজ আলী এবং এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা অলিক মৃ–ও এ আসনে আলোচনায় আছেন।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর)
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু। প্রায় ১৭ বছর পর কারামুক্ত হয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে ফিরেছেন। এই আসনে অন্য কেউ বিএনপির মনোনয়ন চাননি।
জামায়াতের প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির, আর গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে সক্রিয় রয়েছেন শাকিল উজ্জামান।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল)
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এসএম ওবায়দুল হক (নাসির)। তবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান (আজাদ) ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম সিদ্ধান্তটি সহজভাবে নেননি। তাঁদের অনুসারীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কর্মসূচি দিচ্ছেন।
মাইনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ওবায়দুল হক ‘ঘাটাইলের সন্তান নন’। মনোনয়ন না বদলালে তিনি অথবা লুৎফর রহমান খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।
ওবায়দুল হক দাবি করেন, দলীয় নেতা–কর্মীরা তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ; কয়েকজন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন মাত্র।
জামায়াতের প্রার্থী হোসনী মোবারক বাবুল এবং এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাইফুল্লা হায়দার।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী)
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফর রহমান ওরফে মতিন। অন্যদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী বেনজীর আহমেদ (টিটো) নিজস্ব অবস্থান শক্ত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা–সমাবেশ করছেন।
প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আওয়ামী লীগে না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য।
জামায়াতের প্রার্থী খন্দকার আবদুর রাজ্জাক।
টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর)
বিএনপি এখনো এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু) ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল।
জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ। গণসংহতি আন্দোলন মনোনয়ন দিয়েছে ফাতেমা রহমান বীথিকে।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর–দেলদুয়ার)
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক রবিউল আওয়াল (লাভলু)। যদিও এক ডজনের বেশি নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, দল সিদ্ধান্ত জানানোর পর কেউ প্রকাশ্য বিরোধিতা করেননি।
জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম আবদুল হামিদ এবং গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী কবীর হোসেন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর)
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী সাঈদ সোহরাবের অনুসারীরা তাঁর পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ করেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী আবদুল্লাহ তালুকদার। গণসংহতি আন্দোলন মনোনয়ন দিয়েছে আলিফ দেওয়ানকে এবং গণ অধিকার পরিষদ তোফাজ্জল হোসেনকে।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর)
বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খান। অন্য দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী শেখ হাবিবুর রহমান ও সালাউদ্দিন রাসেল যৌথভাবে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।
সালাউদ্দিন রাসেল বলেন, ‘সাধারণ মানুষ আমাকে চায়, তাদের ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা।’
এ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করবেন। তাঁর জন্য দলের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী ও লতিফ সিদ্দিকীকে আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব।’




























