ধর্মেন্দ্রের মৃত্যু, মুম্বাইয়ে সম্পন্ন শেষকৃত্য
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৯৩ বার পড়া হয়েছে
শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হলো বেশ কিছুদিনের আশঙ্কা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের মধ্যেই অবশেষে বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ফিল্মফেয়ারসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম। আজ সকালে মুম্বাইয়ের জুহুর নিজ বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। আগামী ৮ ডিসেম্বর ৯০ বছরে পা দিতেন তিনি। যদিও এখনো তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শোকাচ্ছন্ন বলিউড অঙ্গন। মুম্বাইয়ের পবন হংসে তাঁর শেষকৃত্য চলছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে—অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, অক্ষয় কুমার, অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্ত, আমির খান, সালমান খানসহ অসংখ্য তারকা উপস্থিত হয়ে তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সেখানে আছেন হেমা মালিনী, এষা দেওলসহ পুরো দেওল পরিবার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে করণ জোহর, কারিনা কাপুর, বোমান ইরানি, অনন্যা পান্ডে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় সবাই প্রকাশ করেছেন শোক।
মৃত্যুর গুজব থেকে সত্যে
কয়েকদিন ধরেই ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুজব ছড়াচ্ছিল। আজ তক, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমসসহ অনেক গণমাধ্যমও ভুলবশত খবরটি প্রকাশ করে। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাভেদ আখতার, কে কে মেনন, চিরঞ্জীবীসহ অনেকেই শোকবার্তাও দেন। কিন্তু কিছু সময় পরই ধর্মেন্দ্র–হেমা মালিনীর মেয়ে এষা দেওল এক্সে জানান—‘বাবা সুস্থ আছেন, মৃত্যুর খবরটি গুজব।’
এই পোস্টের পর অনেকে তাঁদের আগের শোকবার্তা মুছে ফেলেন। হেমা মালিনীও ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন—“চিকিৎসাধীন একজন মানুষকে নিয়ে ভুয়া খবর ছড়ানো অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অমার্জনীয়।”
কিন্তু গুজব থামার কিছুদিন পরেই সত্যি এলো দুঃসংবাদ—ধর্মেন্দ্র সত্যিই আর নেই। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, রাতে তাঁর শ্বাসকষ্ট মারাত্মকভাবে বেড়ে যায় এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত আর তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।
বলিউডের ‘হি-ম্যান’
১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে জন্ম ধর্মসিং দেওলের। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রেম তাঁকে টেনে এনেছিল মুম্বাইয়ে—১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার পর শুরু হয় তাঁর যাত্রা।
১৯৬৬ সালের ‘ফুল অউর পাথর’ তাঁকে একঝটকায় বলিউডের ‘হি-ম্যান’ খেতাবে ভূষিত করে। পরের দুই দশকে ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘ধর্মবীর’, ‘দোস্ত’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’—প্রতিটি চলচ্চিত্রে তিনি দেখিয়েছেন অভিনয়ের নতুন বৈচিত্র্য। জনপ্রিয়তা আর ক্যারিশমার অনন্য মিশ্রণে তিনি হয়ে ওঠেন হিন্দি সিনেমার সবচেয়ে স্থায়ী নায়কদের একজন।
হেমা মালিনীর সঙ্গে জীবন
ধর্মেন্দ্রর জীবনে বিশেষ অধ্যায় হেমা মালিনী। দীর্ঘদিন একসঙ্গে অভিনয় করার পর ১৯৮০ সালে তাঁদের বিয়ে—যা তখন বলিউডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ‘সীতা অউর গীতা’, ‘ড্রিমগার্ল’, ‘জুগনু’, ‘দোস্ত’সহ ৩০টিরও বেশি ছবিতে তাঁরা অভিনয় করেছেন।
প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সংসার থেকে ধর্মেন্দ্রর দুই ছেলে—সানি ও ববি দেওল—এখন দুজনেই সফল অভিনেতা।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই ভারতজুড়ে নেমেছে শোকের ঢল। বহু প্রজন্মের দর্শক যাঁর হাসি, সংলাপ, ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়ে অভিভূত ছিলেন—সেই ধর্মেন্দ্র আজ চিরবিদায় নিয়ে বলিউড ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিলেন ‘হি-ম্যান’ পরিচয়ের গৌরবে।



























