সেন্টমার্টিনে দুই মাসের জন্য রাত কাটানোর সুযোগ, মানতে হবে ১২টি নিয়ম
- আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ২০৯৩ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। চলতি পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের জন্য থাকছে রাত্রিযাপনের সুযোগ। তবে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করেছে এবং ১২টি কঠোর নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ যাত্রা করবে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে এবং পরদিন দুপুর ৩টায় ফিরে আসবে কক্সবাজারে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
চারটি জাহাজ অনুমোদিত
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন এই চারটি জাহাজকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকারের আরোপিত ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।” নিরাপত্তার কারণে এবার কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে জাহাজ ছাড়বে। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নৌযাত্রার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
রাত্রিযাপনের সুযোগে বেড়েছে আগ্রহ
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় পর্যটকেরা দ্বীপে যেতে আগ্রহ দেখাননি। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকায় আগ্রহ বেড়েছে এবং সেই অনুযায়ী জাহাজ চলাচলও শুরু হবে।
কঠোর নজরদারি ও সীমাবদ্ধ পর্যটক সংখ্যা
পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজারের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না। কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটি ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাহাজ চলাচলও কঠোর নজরদারিতে পরিচালিত হবে।
সেন্টমার্টিনে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২২ অক্টোবর সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো হলো—
- অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলবে না।
- অনলাইনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক।
- প্রতিটি টিকিটে কিউআর কোড থাকতে হবে; কিউআর কোডবিহীন টিকিট বাতিল হবে।
- রাতের সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না।
- কেয়াবনে প্রবেশ বা কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ।
- সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক–ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।
- দ্বীপে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মোটরযান চলাচল নিষিদ্ধ।
- পলিথিন বহন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।
- পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ।
দায়িত্বশীল পর্যটন নিশ্চিতকরণ
নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে। একই সঙ্গে দ্বীপটিকে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের আদর্শ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই প্রশাসনের লক্ষ্য।
কড়া নিয়মের মধ্যেও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আবারও খুলে যাচ্ছে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পথ—যেখানে সমুদ্র, সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য একত্রিত হয়ে তৈরি করবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।






















