বিদেশ সফরের অনুমতি মেলেনি তিন ডেপুটি গভর্নরের
বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন ডেপুটি গভর্নরের চারটি বিদেশি প্রশিক্ষণ সফর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আটকে দিয়েছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এসব সফর হওয়ার কথা ছিল। চারটির মধ্যে দুটিতে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে, বাকি দুটিতে যথাক্রমে মো. হাবিবুর রহমান ও জাকির হোসেন চৌধুরীকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
- আপডেট সময় : ১২:২০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৮৬ বার পড়া হয়েছে
গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরের বিদেশ সফরের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) প্রয়োজন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদনের পর তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
গত জুলাইয়ে মরক্কোতে ইসলামি অর্থায়ন নিয়ে ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বোর্ডের (আইএফএসবি) বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদের। কিন্তু সরকারি আদেশ না জারি হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি।
সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সে ডিজিটাল লেনদেন ও কার্ড ব্যবস্থার কর্মশালায় অংশ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরীর। খরচ বহন করার কথা ছিল ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু সরকারি অনুমতি না থাকায় সফরটি বাতিল হয়েছে।
নভেম্বরে একই ধরনের আরও দুটি ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান মনোনীত হলেও সরকারি জিও না থাকায় তিনি যেতে পারেননি। চীনে আরেকটি আইএমএফ প্রশিক্ষণে ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ অংশ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অনুমতি মেলেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “সরকারের অনুমতি না থাকায় ডেপুটি গভর্নররা কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনে অংশ নিতে পারেননি।”
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বিদেশ সফরের খরচ বহন করে বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তবে কিছু সফরের অনুমোদন এখনো দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংক সূত্র বলছে, সরকারি প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে এমন ঘটনা বেড়েছে।
সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, “এতে আর্থিক খাতে ক্ষমতার লড়াই দেখা দিচ্ছে। দেশের আর্থিক অবস্থা ইতিমধ্যেই ভালো নয়; এভাবে চললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানায়, মরক্কো সফরের সারসংক্ষেপ ১৯ জুন পাঠানো হয়েছিল, তবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অনুমোদন করেনি। জাকির হোসেন চৌধুরীর ফ্রান্স সফর সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী ছিল। হাবিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফরে অংশ নেবেন না বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। আর কবির আহাম্মদের চীন সফরের সারসংক্ষেপ এখনো অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে রয়েছে।


























