ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

এখনো বিএনপি–জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছে এনসিপি


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১১০ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আসন–সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত কারও সঙ্গে জোট বা আসন–বিন্যাস হবে কি না—এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টিতে ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এতে এনসিপির সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ কমে গেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। কারণ, এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের যে সব নেতার সম্ভাব্য আসন নিয়ে কথা ছিল—সেসব আসনেই বিএনপি এবং জামায়াত উভয়ই প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি জোট বা আসন–সমঝোতা নিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চলবে।”

দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর–৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এছাড়া মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা–১৮), উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (পঞ্চগড়–১), দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা–৪)সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিজ নিজ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এর মধ্যে প্রথম দফায় বিএনপি ঢাকা–৯ ও ঢাকা–১৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করায় সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা দিলেও দ্বিতীয় দফায় ওই দুই আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করায় অনেকে মনে করছেন—এতে এনসিপির সঙ্গে বিএনপির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এনসিপির নেতাদের দাবি, “মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগপর্যন্ত অনেক কিছুই পরিবর্তিত হতে পারে।”

জামায়াতের সঙ্গেও আসন–সমঝোতা বা নির্বাচনী জোটের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ১০ অক্টোবর নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় দলের একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়। এখনও সেই অবস্থানেই আছে তারা।

এ ছাড়া বিএনপি–জামায়াতের বাইরে এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে নতুন একটি নির্বাচনী জোটের উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিল এনসিপি। ২৭ নভেম্বর সেই জোট ঘোষণার কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ মতভেদ এবং আপ বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা–না–নেওয়া নিয়ে দ্বিধার কারণে উদ্যোগটি আর এগোয়নি। সংশ্লিষ্ট দুই দলের শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন—জোট না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

জামায়াতসহ ইসলামপন্থী কয়েকটি দলের সঙ্গেও এনসিপির অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সম্ভাব্য জোট বা সমঝোতার লাভ–ক্ষতি বিশ্লেষণ করছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

এককভাবে নির্বাচন নাকি বৃহত্তর জোট—এনসিপি কোন পথে যাচ্ছে?—এমন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আগামী দু–তিন দিনের মধ্যে ৩০০ আসনে আমাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগপর্যন্ত বিভিন্ন দলের সঙ্গে আসন–সমঝোতার সম্ভাবনাও খোলা আছে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

এখনো বিএনপি–জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছে এনসিপি

আপডেট সময় : ১২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আসন–সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত কারও সঙ্গে জোট বা আসন–বিন্যাস হবে কি না—এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টিতে ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এতে এনসিপির সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ কমে গেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। কারণ, এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের যে সব নেতার সম্ভাব্য আসন নিয়ে কথা ছিল—সেসব আসনেই বিএনপি এবং জামায়াত উভয়ই প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি জোট বা আসন–সমঝোতা নিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চলবে।”

দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর–৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এছাড়া মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা–১৮), উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (পঞ্চগড়–১), দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা–৪)সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিজ নিজ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এর মধ্যে প্রথম দফায় বিএনপি ঢাকা–৯ ও ঢাকা–১৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করায় সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা দিলেও দ্বিতীয় দফায় ওই দুই আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করায় অনেকে মনে করছেন—এতে এনসিপির সঙ্গে বিএনপির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এনসিপির নেতাদের দাবি, “মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগপর্যন্ত অনেক কিছুই পরিবর্তিত হতে পারে।”

জামায়াতের সঙ্গেও আসন–সমঝোতা বা নির্বাচনী জোটের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ১০ অক্টোবর নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় দলের একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়। এখনও সেই অবস্থানেই আছে তারা।

এ ছাড়া বিএনপি–জামায়াতের বাইরে এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে নতুন একটি নির্বাচনী জোটের উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিল এনসিপি। ২৭ নভেম্বর সেই জোট ঘোষণার কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ মতভেদ এবং আপ বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা–না–নেওয়া নিয়ে দ্বিধার কারণে উদ্যোগটি আর এগোয়নি। সংশ্লিষ্ট দুই দলের শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন—জোট না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

জামায়াতসহ ইসলামপন্থী কয়েকটি দলের সঙ্গেও এনসিপির অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সম্ভাব্য জোট বা সমঝোতার লাভ–ক্ষতি বিশ্লেষণ করছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

এককভাবে নির্বাচন নাকি বৃহত্তর জোট—এনসিপি কোন পথে যাচ্ছে?—এমন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আগামী দু–তিন দিনের মধ্যে ৩০০ আসনে আমাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগপর্যন্ত বিভিন্ন দলের সঙ্গে আসন–সমঝোতার সম্ভাবনাও খোলা আছে।”