ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ আজ পদত্যাগপত্র দিচ্ছেন।


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১০০ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের দুই ছাত্র প্রতিনিধি আজ বুধবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা সর্বোচ্চ কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন। গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।

এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিনি সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন। সরকার–সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার বৈঠকেও দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা নিশ্চিত হন যে আজই তাঁরা পদত্যাগ করছেন।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই মনে করেন—তফসিল ঘোষণার পর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকা এই দুই উপদেষ্টার সরকারে থাকা অনুচিত হবে। তাঁরা নির্বাচন করবেন কি না, তা বিবেচ্য নয়—তাঁদের সরে দাঁড়ানোই প্রত্যাশিত। সরকারের এই মনোভাব জানার পর তফসিল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগেই মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। দুজনই কিছুটা সময় চান। মাহফুজ আলম তখন সরকারের মেয়াদ পর্যন্ত থাকতে চাইলেও নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে গত মাসের মাঝামাঝি আবারও তাঁদের ওপর পদত্যাগের তাগাদা আসে।

তাঁদের মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনজনকে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নাহিদ ইসলাম প্রথমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পান, পরে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক হন। এরপর সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়ে পরে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব পান।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক ঠিকানা স্পষ্ট নয়। তিনি ইতিমধ্যে ধানমন্ডিতে ভোটার হয়ে ঢাকা–১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির সঙ্গেও তাঁর সমঝোতার আলোচনা শোনা গেছে। তবে বিএনপি ইতিমধ্যে ঢাকা–১০ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে তাঁর স্বতন্ত্র বা দলীয় প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

অন্যদিকে মাহফুজ আলমের বাড়ি লক্ষ্মীপুর–১ আসনে। সেখানে বিএনপি মনোনয়ন না দিলেও সম্প্রতি এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিয়ে ওই আসনের প্রার্থী হন। এতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় মাহফুজ আলমের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠনে সক্রিয়। সম্প্রতি এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে নতুন জোট গঠন করেছে। এনসিপি নিজেদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে। মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ দলটির মনোনয়ন নেন কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ আজ পদত্যাগপত্র দিচ্ছেন।

আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের দুই ছাত্র প্রতিনিধি আজ বুধবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা সর্বোচ্চ কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন। গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।

এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিনি সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন। সরকার–সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার বৈঠকেও দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা নিশ্চিত হন যে আজই তাঁরা পদত্যাগ করছেন।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই মনে করেন—তফসিল ঘোষণার পর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকা এই দুই উপদেষ্টার সরকারে থাকা অনুচিত হবে। তাঁরা নির্বাচন করবেন কি না, তা বিবেচ্য নয়—তাঁদের সরে দাঁড়ানোই প্রত্যাশিত। সরকারের এই মনোভাব জানার পর তফসিল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগেই মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। দুজনই কিছুটা সময় চান। মাহফুজ আলম তখন সরকারের মেয়াদ পর্যন্ত থাকতে চাইলেও নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে গত মাসের মাঝামাঝি আবারও তাঁদের ওপর পদত্যাগের তাগাদা আসে।

তাঁদের মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনজনকে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নাহিদ ইসলাম প্রথমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পান, পরে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক হন। এরপর সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়ে পরে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব পান।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক ঠিকানা স্পষ্ট নয়। তিনি ইতিমধ্যে ধানমন্ডিতে ভোটার হয়ে ঢাকা–১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির সঙ্গেও তাঁর সমঝোতার আলোচনা শোনা গেছে। তবে বিএনপি ইতিমধ্যে ঢাকা–১০ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে তাঁর স্বতন্ত্র বা দলীয় প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

অন্যদিকে মাহফুজ আলমের বাড়ি লক্ষ্মীপুর–১ আসনে। সেখানে বিএনপি মনোনয়ন না দিলেও সম্প্রতি এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিয়ে ওই আসনের প্রার্থী হন। এতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় মাহফুজ আলমের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠনে সক্রিয়। সম্প্রতি এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে নতুন জোট গঠন করেছে। এনসিপি নিজেদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে। মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ দলটির মনোনয়ন নেন কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।