ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়েছে বিএনপি: তারেক রহমান


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১২:২২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১০৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু এবং মিথ্যা মামলার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরাই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বিএনপি সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয় সহ্য করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি লেখেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশ ‘একটি কালো মেঘের নিচে’ ছিল। কেউ তীব্রভাবে সেই অন্ধকার টের পেয়েছেন, আবার কেউ নীরবে তা সহ্য করেছেন। তবে যারা সেই সময়ের সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করেছিলেন, তাদের জন্য ছিল ভয়, মামলা, নির্যাতনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। অনেক পরিবার অপেক্ষায় থেকেও আর প্রিয়জনের দেখা পায়নি।

তার দাবি, এই বোঝা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু ও মিথ্যা মামলার ঘটনায় বিএনপি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে বিএনপির ঘরে।

তবে তারেক রহমান বলেন, শুধু বিএনপি নয়—ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী ও সাধারণ মানুষও মানবাধিকার সংকটের এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদাসহ মৌলিক অধিকারগুলো হুমকির মুখে ছিল।

২০১৫ সাল থেকে তার নিজের কথা বলার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রচার না করার নির্দেশনা ছিল বলেও উল্লেখ করেন। তবুও তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, খালেদা জিয়া ছিলেন ধৈর্য ও প্রতিরোধের প্রতীক। মিথ্যা মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিকভাবে তাকে নিঃশেষ করার প্রচেষ্টা দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিচ্ছবি। তবুও খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে সরে যাননি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কঠিন সময়টি তাদের পরিবারও সরাসরি অনুভব করেছে—এক ছেলেকে কারাগারে নেওয়ার ব্যথা যেমন খালেদা জিয়া সহ্য করেছেন, তেমনি আরেক ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা তাদের পরিবারকেও তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

তারেক রহমান লিখেন, ইতিহাস বলে—কষ্ট মানুষকে কখনো কখনো আরও দৃঢ় করে তোলে। তাঁর মতে, খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন অন্যায় সহ্য করেও ন্যায়, নৈতিকতা ও ক্ষমাশীলতার পথে থাকা সম্ভব।

তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ, যেখানে মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে। ভিন্নমতকে হুমকি নয়—গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কাউকে নিখোঁজ বা নির্যাতনের ভয়ে বাঁচতে হবে না। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, সমাধাননির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী।

মানবাধিকার দিবসের প্রসঙ্গে তিনি আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সাগর-রুনিসহ বিভিন্ন ঘটনার কথা স্মরণ করেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নিপীড়ন ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি আর ফিরে না আসে—এ দাবি জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ভয়াবহ ক্ষতি সহ্য করেছে, কিন্তু ভেঙে যায়নি। বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি ও আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন—যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন সমানভাবে মূল্যবান, এবং মানবাধিকার হবে ভবিষ্যতের ভিত্তি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়েছে বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১২:২২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু এবং মিথ্যা মামলার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরাই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বিএনপি সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয় সহ্য করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি লেখেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশ ‘একটি কালো মেঘের নিচে’ ছিল। কেউ তীব্রভাবে সেই অন্ধকার টের পেয়েছেন, আবার কেউ নীরবে তা সহ্য করেছেন। তবে যারা সেই সময়ের সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করেছিলেন, তাদের জন্য ছিল ভয়, মামলা, নির্যাতনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। অনেক পরিবার অপেক্ষায় থেকেও আর প্রিয়জনের দেখা পায়নি।

তার দাবি, এই বোঝা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু ও মিথ্যা মামলার ঘটনায় বিএনপি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে বিএনপির ঘরে।

তবে তারেক রহমান বলেন, শুধু বিএনপি নয়—ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী ও সাধারণ মানুষও মানবাধিকার সংকটের এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদাসহ মৌলিক অধিকারগুলো হুমকির মুখে ছিল।

২০১৫ সাল থেকে তার নিজের কথা বলার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রচার না করার নির্দেশনা ছিল বলেও উল্লেখ করেন। তবুও তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, খালেদা জিয়া ছিলেন ধৈর্য ও প্রতিরোধের প্রতীক। মিথ্যা মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিকভাবে তাকে নিঃশেষ করার প্রচেষ্টা দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিচ্ছবি। তবুও খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে সরে যাননি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কঠিন সময়টি তাদের পরিবারও সরাসরি অনুভব করেছে—এক ছেলেকে কারাগারে নেওয়ার ব্যথা যেমন খালেদা জিয়া সহ্য করেছেন, তেমনি আরেক ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা তাদের পরিবারকেও তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

তারেক রহমান লিখেন, ইতিহাস বলে—কষ্ট মানুষকে কখনো কখনো আরও দৃঢ় করে তোলে। তাঁর মতে, খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন অন্যায় সহ্য করেও ন্যায়, নৈতিকতা ও ক্ষমাশীলতার পথে থাকা সম্ভব।

তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ, যেখানে মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে। ভিন্নমতকে হুমকি নয়—গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কাউকে নিখোঁজ বা নির্যাতনের ভয়ে বাঁচতে হবে না। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, সমাধাননির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী।

মানবাধিকার দিবসের প্রসঙ্গে তিনি আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সাগর-রুনিসহ বিভিন্ন ঘটনার কথা স্মরণ করেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নিপীড়ন ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি আর ফিরে না আসে—এ দাবি জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ভয়াবহ ক্ষতি সহ্য করেছে, কিন্তু ভেঙে যায়নি। বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি ও আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন—যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন সমানভাবে মূল্যবান, এবং মানবাধিকার হবে ভবিষ্যতের ভিত্তি।