ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের দাবি: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা শুধু দাসদের সন্তানদের জন্য, ধনীদের জন্য নয়।


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৮৯ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মূলত দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধদের সন্তানদের জন্য চালু করা হয়েছিল, ধনী বিদেশি পরিবারদের জন্য নয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ধনী পরিবারগুলো এই নিয়মকে ব্যবহার করে পুরো পরিবারকে মার্কিন নাগরিক বানাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প কয়েকটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মধ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের নির্দেশও ছিল। তবে বিরোধীরা এটি ‘অসাংবিধানিক’ বলে চ্যালেঞ্জ করেন এবং এক আদালত আদেশকে সাময়িক স্থগিত করে।

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি জানায়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে। ফলে আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুরা নাগরিক হবেন কি না। এর কয়েকদিন পর পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন যদি এই মামলা হারে, তা হবে ‘ধ্বংসাত্মক’।

ট্রাম্পের ভাষ্য, “এই আইন মূলত দাসদের সন্তানদের জন্য তৈরি হয়েছিল, গৃহযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে। কোনো বিদেশি ধনী পরিবার এখানে এসে নাগরিকত্ব পান, সেই উদ্দেশ্য ছিল না।” তিনি আরও বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে শিশুর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিতে হবে এবং বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত অধিক্ষেত্রের আওতায় থাকতে হবে। তবে ‘অধিক্ষেত্রের আওতা’ কী তা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

১৮৬৮ সালে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক। ১৯৫২ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টেও একই বিধান রয়েছে। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী ছিলেন, যদিও কিছু বিশ্লেষক সংখ্যা ১ কোটি ৩০–৪০ লাখ বলছেন। তাদের সন্তানরাও নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। এছাড়া অনেক বিদেশি নারী সন্তান জন্ম দেয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ট্রাম্পের দাবি: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা শুধু দাসদের সন্তানদের জন্য, ধনীদের জন্য নয়।

আপডেট সময় : ০৮:০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মূলত দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধদের সন্তানদের জন্য চালু করা হয়েছিল, ধনী বিদেশি পরিবারদের জন্য নয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ধনী পরিবারগুলো এই নিয়মকে ব্যবহার করে পুরো পরিবারকে মার্কিন নাগরিক বানাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প কয়েকটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মধ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের নির্দেশও ছিল। তবে বিরোধীরা এটি ‘অসাংবিধানিক’ বলে চ্যালেঞ্জ করেন এবং এক আদালত আদেশকে সাময়িক স্থগিত করে।

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি জানায়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে। ফলে আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুরা নাগরিক হবেন কি না। এর কয়েকদিন পর পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন যদি এই মামলা হারে, তা হবে ‘ধ্বংসাত্মক’।

ট্রাম্পের ভাষ্য, “এই আইন মূলত দাসদের সন্তানদের জন্য তৈরি হয়েছিল, গৃহযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে। কোনো বিদেশি ধনী পরিবার এখানে এসে নাগরিকত্ব পান, সেই উদ্দেশ্য ছিল না।” তিনি আরও বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে শিশুর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিতে হবে এবং বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত অধিক্ষেত্রের আওতায় থাকতে হবে। তবে ‘অধিক্ষেত্রের আওতা’ কী তা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

১৮৬৮ সালে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক। ১৯৫২ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টেও একই বিধান রয়েছে। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী ছিলেন, যদিও কিছু বিশ্লেষক সংখ্যা ১ কোটি ৩০–৪০ লাখ বলছেন। তাদের সন্তানরাও নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। এছাড়া অনেক বিদেশি নারী সন্তান জন্ম দেয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।