থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতে নিহত ২৭, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৫ লাখ মানুষ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১২০ বার পড়া হয়েছে
ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত পরিস্থিতি। ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে দুই দেশের সেনারা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। মুখোমুখি এসব লড়াইয়ে সেনা সদস্যসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, উভয় দেশেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কম্বোডিয়ার হামলায় এ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ১৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ হামলায় থাইল্যান্ডে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।
সংঘর্ষের কারণে থাইল্যান্ডে চার লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, আল জাজিরার তথ্যানুসারে থাই সেনাদের হামলায় কম্বোডিয়ার অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৫ জন। দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এ প্রস্তাবে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সম্মত হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এ দাবি নাকচ করেছে উভয় দেশ। শনিবার থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্ণভিরাকুল বলেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ এখনো চলছে। সীমান্ত ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে কম্বোডিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। অপরদিকে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থাইল্যান্ড একটি প্রদেশে কারফিউ জারি করেছে।
এদিকে, যুদ্ধ থামাতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি দুই দেশের সীমান্তে আসিয়ান সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দেন, যার নেতৃত্বে থাকবে মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী। এ প্রস্তাবে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত সম্মতি জানালেও, থাইল্যান্ড তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।



























