ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

হর্ন বাজিয়ে শব্দদূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সার্জেন্টদের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১১৯ বার পড়া হয়েছে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখন বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্টসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। তিনি এটিকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশকে আইনপ্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান ও বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত নির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু জরিমানা নয়, জনসচেতনতা তৈরিও সমানভাবে জরুরি। শব্দদূষণ এখন আর তুচ্ছ কোনো সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং নগরজীবনের স্বস্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ জন্য পরিবহন, নির্মাণকাজ, মাইক ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ২০২৪ সালের থার্টি-ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সচেতনতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে ক্রেস্ট ও ধন্যবাদপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্টদের জন্য ৫০টি সাউন্ড মিটার প্রদানের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত কমিশনারের হাতে একটি সাউন্ড মিটার তুলে দেওয়া হয়।

পরে পরিবেশ উপদেষ্টা ব্র্যাক সিডিএম, রাজেন্দ্রপুরে আয়োজিত লেড রিমেডিয়েশন প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, লিড দূষণের উৎস চিহ্নিত করে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ নজরদারি ছাড়া কারখানা স্থানান্তর করলে সমস্যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে পারে। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি লেড অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, উৎসভিত্তিক তালিকা, সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানে কঠোর চেকলিস্ট এবং অংশীদারিত্বভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে লিডমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

হর্ন বাজিয়ে শব্দদূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সার্জেন্টদের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখন বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্টসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। তিনি এটিকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশকে আইনপ্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান ও বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত নির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু জরিমানা নয়, জনসচেতনতা তৈরিও সমানভাবে জরুরি। শব্দদূষণ এখন আর তুচ্ছ কোনো সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং নগরজীবনের স্বস্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ জন্য পরিবহন, নির্মাণকাজ, মাইক ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ২০২৪ সালের থার্টি-ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সচেতনতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে ক্রেস্ট ও ধন্যবাদপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্টদের জন্য ৫০টি সাউন্ড মিটার প্রদানের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত কমিশনারের হাতে একটি সাউন্ড মিটার তুলে দেওয়া হয়।

পরে পরিবেশ উপদেষ্টা ব্র্যাক সিডিএম, রাজেন্দ্রপুরে আয়োজিত লেড রিমেডিয়েশন প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, লিড দূষণের উৎস চিহ্নিত করে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ নজরদারি ছাড়া কারখানা স্থানান্তর করলে সমস্যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে পারে। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি লেড অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, উৎসভিত্তিক তালিকা, সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানে কঠোর চেকলিস্ট এবং অংশীদারিত্বভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে লিডমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।