ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অস্থির পরিস্থিতির ইঙ্গিত


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৯৮ বার পড়া হয়েছে

২০১৯ সালের পর আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে ইরান। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) থেকে দেশটিতে নতুন দামে পেট্রল বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় পেট্রলের দাম তিন স্তরে নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জ্বালানি ভর্তুকি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে তেহরান। ২০১৯ সালে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পর এটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সে সময় হঠাৎ দাম বাড়ানোর জেরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে অন্তত তিন শতাধিক মানুষ নিহত হন।

ইরানে বহু প্রজন্ম ধরে সস্তা পেট্রলকে এক ধরনের ‘অধিকার’ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে দেশটির শাসকগোষ্ঠী। দ্রুত অবমূল্যায়ন হওয়া মুদ্রা ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সরকারের পক্ষে ভর্তুকি বহাল রাখা কঠিন করে তুলেছে।

বিশ্বের অন্যতম সস্তা দামে পেট্রল সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে ইরানকে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে প্রথম ৬০ লিটার পেট্রল আগের মতোই ভর্তুকি মূল্যে লিটারপ্রতি ১৫ হাজার রিয়ালে পাওয়া যাবে। পরবর্তী ১০০ লিটারের জন্য গুনতে হবে লিটারপ্রতি ৩০ হাজার রিয়াল। আর এর বেশি কিনতে হলে লিটারপ্রতি ৫০ হাজার রিয়াল পরিশোধ করতে হবে।

ঘোষণার পর সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে কয়েকটি এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জ্বালানি ভর্তুকি দিয়েছে ইরান, যার পরিমাণ প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ভর্তুকি যেমন বাজেট ঘাটতি কমাতে পারেনি, তেমনি মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ইরানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পেট্রলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি ব্যবহারের অপচয় কমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ইরানি জনগণের জন্য জ্বালানির দাম নিয়ে সরকারের যেকোনো ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত আবারও বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অস্থির পরিস্থিতির ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

২০১৯ সালের পর আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে ইরান। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) থেকে দেশটিতে নতুন দামে পেট্রল বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় পেট্রলের দাম তিন স্তরে নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জ্বালানি ভর্তুকি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে তেহরান। ২০১৯ সালে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পর এটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সে সময় হঠাৎ দাম বাড়ানোর জেরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে অন্তত তিন শতাধিক মানুষ নিহত হন।

ইরানে বহু প্রজন্ম ধরে সস্তা পেট্রলকে এক ধরনের ‘অধিকার’ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে দেশটির শাসকগোষ্ঠী। দ্রুত অবমূল্যায়ন হওয়া মুদ্রা ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সরকারের পক্ষে ভর্তুকি বহাল রাখা কঠিন করে তুলেছে।

বিশ্বের অন্যতম সস্তা দামে পেট্রল সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে ইরানকে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে প্রথম ৬০ লিটার পেট্রল আগের মতোই ভর্তুকি মূল্যে লিটারপ্রতি ১৫ হাজার রিয়ালে পাওয়া যাবে। পরবর্তী ১০০ লিটারের জন্য গুনতে হবে লিটারপ্রতি ৩০ হাজার রিয়াল। আর এর বেশি কিনতে হলে লিটারপ্রতি ৫০ হাজার রিয়াল পরিশোধ করতে হবে।

ঘোষণার পর সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে কয়েকটি এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জ্বালানি ভর্তুকি দিয়েছে ইরান, যার পরিমাণ প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ভর্তুকি যেমন বাজেট ঘাটতি কমাতে পারেনি, তেমনি মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ইরানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পেট্রলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি ব্যবহারের অপচয় কমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ইরানি জনগণের জন্য জ্বালানির দাম নিয়ে সরকারের যেকোনো ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত আবারও বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।