ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা ঘিরে কঠিন পরীক্ষায় পাক সেনাপ্রধান মুনির
- আপডেট সময় : ০২:১৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৯৩ বার পড়া হয়েছে
গাজায় প্রস্তাবিত ‘স্থিতিশীলতা বাহিনী’-তে সেনা পাঠাতে ইসলামাবাদের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কঠিন এক রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষার মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত দেশটির অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে আসিম মুনিরের। ছয় মাসের মধ্যে এটি হবে তাদের তৃতীয় বৈঠক। দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীই এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে। সূত্রগুলোর একটি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক কূটনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনায় মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে সেনা নিয়ে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার তদারক করাই এই বাহিনীর লক্ষ্য।
তবে গাজায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের ভূমিকা ও সম্ভাব্য সামরিকীকরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং নিজ নিজ দেশের ফিলিস্তিনপন্থি ও ইসরাইলবিরোধী জনমত ক্ষুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রয়টার্স জানায়, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটিয়ে উঠতে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন আসিম মুনির। চলতি বছরের জুনে তাকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে সময় বেসামরিক কর্মকর্তাদের ছাড়াই প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে এককভাবে আতিথ্য দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা বাহিনীতে অবদান না রাখলে ট্রাম্পের অসন্তোষের মুখে পড়তে পারে ইসলামাবাদ। যা পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মার্কিন বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ট্রাম্পের অনুগ্রহ ধরে রাখা পাকিস্তানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র মুসলিম দেশ, যার পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশটি ভারতের সঙ্গে তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং চলতি বছরের মে মাসেও দুই দেশের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সংঘাত হয়েছে।
লেখক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক অবস্থানের কারণে আসিম মুনিরের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের চাপ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র দপ্তর ও তথ্য মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। একইভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি হোয়াইট হাউসও।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছিলেন, শান্তিরক্ষার প্রয়োজনে ইসলামাবাদ সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে হামাসকে নিরস্ত্র করা পাকিস্তানের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।



























