ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রের বলে মন্তব্য ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী মিলারের


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৮৬ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল মূলত ওয়াশিংটনের সম্পদ। দেশটির তেল শিল্প জাতীয়করণকে তিনি ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে ধারাবাহিক হামলা এবং ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এই মন্তব্য করেন মিলার।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনার প্রধান কারণ মাদক চোরাচালান। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য দেশটির তেলসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মিলারের তেল সংক্রান্ত মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের মাদক চোরাচালানকেন্দ্রিক যুক্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টিফেন মিলার বলেন, ‘আমেরিকানদের ঘাম, বুদ্ধি ও শ্রমের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় তেল শিল্প গড়ে উঠেছে। সেই শিল্প নিপীড়নমূলকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা মার্কিন সম্পদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা। এই লুণ্ঠিত সম্পদ সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং আমাদের রাস্তায় খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ছড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত হয়েছে।’

ঐতিহাসিকভাবে ভেনেজুয়েলায় তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর বড় ভূমিকা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক আইনে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্বের নীতিমালা অনুযায়ী তেলের মালিকানা ভেনেজুয়েলারই। সে অনুযায়ী ১৯৭৬ সালে দেশটি তেলখাত জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ-এর অধীনে আনে।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ অবশিষ্ট বিদেশি মালিকানাধীন তেল প্রকল্পগুলো জাতীয়করণ করেন। এর ফলে কনোকোফিলিপস ও এক্সন মবিলসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলা ছাড়তে বাধ্য হয়।

জাতীয়করণের বিরুদ্ধে মার্কিন কোম্পানিগুলো আইনি চ্যালেঞ্জ জানালে ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের অধীন একটি সালিসি ট্রাইব্যুনাল এক্সন মবিলকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে ভেনেজুয়েলাকে নির্দেশ দেয়। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির আশপাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় একশ’ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রের বলে মন্তব্য ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী মিলারের

আপডেট সময় : ০৭:২২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল মূলত ওয়াশিংটনের সম্পদ। দেশটির তেল শিল্প জাতীয়করণকে তিনি ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে ধারাবাহিক হামলা এবং ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এই মন্তব্য করেন মিলার।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনার প্রধান কারণ মাদক চোরাচালান। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য দেশটির তেলসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মিলারের তেল সংক্রান্ত মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের মাদক চোরাচালানকেন্দ্রিক যুক্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টিফেন মিলার বলেন, ‘আমেরিকানদের ঘাম, বুদ্ধি ও শ্রমের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় তেল শিল্প গড়ে উঠেছে। সেই শিল্প নিপীড়নমূলকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা মার্কিন সম্পদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা। এই লুণ্ঠিত সম্পদ সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং আমাদের রাস্তায় খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ছড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত হয়েছে।’

ঐতিহাসিকভাবে ভেনেজুয়েলায় তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর বড় ভূমিকা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক আইনে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্বের নীতিমালা অনুযায়ী তেলের মালিকানা ভেনেজুয়েলারই। সে অনুযায়ী ১৯৭৬ সালে দেশটি তেলখাত জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ-এর অধীনে আনে।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ অবশিষ্ট বিদেশি মালিকানাধীন তেল প্রকল্পগুলো জাতীয়করণ করেন। এর ফলে কনোকোফিলিপস ও এক্সন মবিলসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলা ছাড়তে বাধ্য হয়।

জাতীয়করণের বিরুদ্ধে মার্কিন কোম্পানিগুলো আইনি চ্যালেঞ্জ জানালে ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের অধীন একটি সালিসি ট্রাইব্যুনাল এক্সন মবিলকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে ভেনেজুয়েলাকে নির্দেশ দেয়। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির আশপাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় একশ’ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।