ওসমান হাদি হত্যা: ‘মাস্টারমাইন্ড’ শাহীন কে?
- আপডেট সময় : ০১:১৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১৩৬ বার পড়া হয়েছে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’কে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যার ‘কিলিং মিশনে’ অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন শাহীন চেয়ারম্যান নিজেই। এ ঘটনায় তার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণও মিলেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান এককভাবে নয়, ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তিনি একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে আগেই পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে আত্মগোপনে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, হোয়াটসঅ্যাপ কল ও বার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগোচ্ছে। খুব শিগগিরই মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্টদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সে ভারতের মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলামত গায়েব করা হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়






















