ভারত–বাংলাদেশ উত্তেজনা নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে রাশিয়ান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে রাশিয়া কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চায় না। তবে পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ইস্যু। ফলপ্রসূ সমাধান না এলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো অঞ্চলে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত খোজিন বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমানো প্রয়োজন। এটাই সবার জন্য ভালো।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং সে সময় রাশিয়াও সমর্থন দিয়েছিল। তখন ভারত, বাংলাদেশ ও রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে এবং মাইন পরিষ্কারের মতো কার্যক্রমেও সহযোগিতা ছিল।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, যেকোনো ধরনের উত্তেজনা দ্রুত কমানোই সবচেয়ে জরুরি।
আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রতিবেশী দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় এবং একইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। খোজিন বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য তারা লক্ষ্য করেছেন।
এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত খোজিন বলেন, বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক, বন্ধুত্বপূর্ণ, অহিংস ও চরমপন্থামুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এটাই রাশিয়ার প্রত্যাশা।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব উত্তেজনা কমানো নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহী। তবে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ আসতে হবে। নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে দায়িত্বশীল।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে তা মস্কোতে জানানো হবে এবং রাশিয়া ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, সাধারণত রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং কখনো কখনো স্টেট দুমা বা উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক দলে থাকেন।
আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত রাশিয়াকে অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।






















