ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ ইসরাইল
- আপডেট সময় : ০৭:১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৮৭ বার পড়া হয়েছে
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষেপণাস্ত্রকে কেন্দ্র করে চলমান একটি সামরিক মহড়ার আড়ালে তেল আবিবে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে জানিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইলি ও মার্কিন সূত্রের বরাতে রোববার (২১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সিরিজের সামনে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। এই পরিস্থিতিকে ঘিরেই উদ্বেগ প্রকাশ করছে ইসরাইল।
অ্যাক্সিওস জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলের ‘ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রায় ছয় সপ্তাহ আগেও একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা দেখে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল ইসরাইল, যদিও তখন কোনো হামলা হয়নি।
ইসরাইলি একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানায়, ‘ইরানের হামলার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের কম। তবে কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে রাজি নয় যে এটি কেবল একটি মহড়া।’
অন্যদিকে এক মার্কিন সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পায়নি, যা থেকে ইরানের আসন্ন হামলার ইঙ্গিত মেলে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরুর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে ভুল হিসাব থেকে—যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে হামলার প্রস্তুতিতে রয়েছে মনে করে আগাম পদক্ষেপ নিতে পারে।
অ্যাক্সিওসের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসের সংঘাতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ৫০ শতাংশ হারিয়েছে। বর্তমানে দেশটির হাতে আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০০টি লঞ্চার রয়েছে। যদিও তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোসাদ ও ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) সামরিক গোয়েন্দা শাখার মূল্যায়ন হলো—ইরানের বর্তমান অস্ত্র মজুতের গতি তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন তৈরি করছে না। তবে কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অ্যাক্সিওস জানায়, আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ইরানের সামরিক মহড়া নিয়ে উদ্বেগ জানান। পরে রোববার তেল আবিবে তাদের সাক্ষাৎ হয়, যেখানে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন জামির।
এ বিষয়ে আইডিএফ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একইভাবে সেন্টকমও অ্যাক্সিওসের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।



























