মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ভেনেজুয়েলার পাশে চীন ও রাশিয়া
- আপডেট সময় : ০১:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১০১ বার পড়া হয়েছে
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মাদুরোর জন্য ‘সরে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভেনেজুয়েলার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
ফ্লোরিডার বাসভবনে স্থানীয় সময় সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়তে পারে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, সম্ভবত তাই। তবে এটা তার ওপর নির্ভর করছে—সে কী করতে চায়। আমার মনে হয়, তার জন্য সরে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদুরো যদি শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে সেটিই হবে তার শেষ শক্ত অবস্থান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভেনেজুয়েলার তৃতীয় একটি তেলবাহী জাহাজ ধাওয়া করছে। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি ভেনেজুয়েলার তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ, যা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ট্রাম্প বলেন, কোস্টগার্ড ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ও দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের জবাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলাকে হুমকি না দিয়ে ট্রাম্পের উচিত নিজের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভান গিলের সঙ্গে ফোনালাপে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে চীনও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির পরিপন্থি। তিনি জানান, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে চীন এবং নিজেদের বৈধ স্বার্থ রক্ষায় ভেনেজুয়েলার অবস্থানকে সমর্থন করে বেইজিং।



























