ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৫ সালে ইসরাইল কোন কোন দেশে হামলা চালিয়েছে?


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১১৬ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশে সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। চলতি বছরে দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিন ছাড়াও ইরান, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনে হামলা পরিচালনা করেছে। এমনকি তিউনিসিয়া, মাল্টা ও গ্রিসের জলসীমায় গাজামুখী ত্রাণবহরেও ইসরাইলি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্বাধীন সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসরাইল অন্তত ১০ হাজার ৬৩১টি হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এক বছরে এত বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসরে পরিচালিত এই অভিযান ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কার্যক্রম।

হামলার তথ্য কীভাবে গণনা করা হয়েছে
এসিএলইডি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করে থাকে।

কোথায় সবচেয়ে বেশি হামলা
চলতি বছরে ইসরাইলের সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ৬২ হাজার আহত হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় শত শতবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। এসব হামলায় কমপক্ষে ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ১০০ জন আহত হয়েছে।

এসিএলইডির হিসাব অনুযায়ী, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৮ হাজার ৩৩২ বার, লেবাননে ১ হাজার ৬৫৩ বার, ইরানে ৩৭৯ বার, সিরিয়ায় ২০৭ বার, ইয়েমেনে ৪৮ বার এবং কাতারে একবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এছাড়া তিউনিসিয়ার জলসীমায় দুইবার এবং মাল্টা ও গ্রিসের জলসীমায় একবার করে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

গাজা ও পশ্চিম তীর
চলতি বছর ফিলিস্তিনজুড়ে গড়ে প্রতিদিন ২৫ বার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এর মধ্যে গাজায় ৭ হাজার ২৪টি এবং পশ্চিম তীরে ১ হাজার ৩০৮টি হামলা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় প্রতিদিনই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।

পশ্চিম তীরেও অভিযান জোরদার করেছে তারা। জেনিন, তুলকারেম ও নূর শামস শরণার্থী শিবিরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানায়, চলতি বছর ২৭০টির বেশি সম্প্রদায় এবং অন্তত ১ হাজার ৬৮০ জন বসতি স্থাপনকারী হামলার শিকার হয়েছে।

লেবাননে হামলা
হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল এ বছর লেবাননে ১ হাজার ৬৫৩টির বেশি হামলা চালিয়েছে। অধিকাংশ হামলাই হয়েছে দক্ষিণ লেবাননে। বেকা উপত্যকা ও রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠেও ইসরাইলি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইরানে হামলা
গত ১৩ জুন রাতে ইসরাইল প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে কয়েক ডজন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন এবং একাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়। ১২ দিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৪ জুন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এসিএলইডি জানায়, ইসরাইল ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৮টিতে অন্তত ৩৭৯টি হামলা চালিয়েছে।

সিরিয়ায় হামলা
গত এক বছরে সিরিয়ায় ২০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এসব হামলার বেশিরভাগই কুনেইত্রা, ডেরা ও দামেস্ক প্রদেশে সংঘটিত হয়েছে। আসাদ সরকারের পতনের পর ‘চরমপন্থিদের হাতে অস্ত্র যাওয়া ঠেকাতে’ এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে ইসরাইল।

ইয়েমেনে হামলা
এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে কমপক্ষে ৪৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত ২৮ আগস্ট রাজধানী সানায় ইসরাইলি বিমান হামলায় হুতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাবিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

কাতারে হামলা
গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরাইল হামলা চালায়। ওয়েস্ট বে লেগুন এলাকায় চালানো ওই হামলায় ছয়জন নিহত হন। হামলার পর কাতারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলা
গাজামুখী ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ও ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের নৌবহরেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। মাল্টা, তিউনিসিয়া ও গ্রিসের উপকূলের কাছে ড্রোন হামলায় এসব নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

২০২৫ সালে ইসরাইল কোন কোন দেশে হামলা চালিয়েছে?

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশে সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। চলতি বছরে দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিন ছাড়াও ইরান, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনে হামলা পরিচালনা করেছে। এমনকি তিউনিসিয়া, মাল্টা ও গ্রিসের জলসীমায় গাজামুখী ত্রাণবহরেও ইসরাইলি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্বাধীন সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসরাইল অন্তত ১০ হাজার ৬৩১টি হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এক বছরে এত বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসরে পরিচালিত এই অভিযান ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কার্যক্রম।

হামলার তথ্য কীভাবে গণনা করা হয়েছে
এসিএলইডি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করে থাকে।

কোথায় সবচেয়ে বেশি হামলা
চলতি বছরে ইসরাইলের সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ৬২ হাজার আহত হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় শত শতবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। এসব হামলায় কমপক্ষে ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ১০০ জন আহত হয়েছে।

এসিএলইডির হিসাব অনুযায়ী, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৮ হাজার ৩৩২ বার, লেবাননে ১ হাজার ৬৫৩ বার, ইরানে ৩৭৯ বার, সিরিয়ায় ২০৭ বার, ইয়েমেনে ৪৮ বার এবং কাতারে একবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এছাড়া তিউনিসিয়ার জলসীমায় দুইবার এবং মাল্টা ও গ্রিসের জলসীমায় একবার করে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

গাজা ও পশ্চিম তীর
চলতি বছর ফিলিস্তিনজুড়ে গড়ে প্রতিদিন ২৫ বার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এর মধ্যে গাজায় ৭ হাজার ২৪টি এবং পশ্চিম তীরে ১ হাজার ৩০৮টি হামলা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় প্রতিদিনই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।

পশ্চিম তীরেও অভিযান জোরদার করেছে তারা। জেনিন, তুলকারেম ও নূর শামস শরণার্থী শিবিরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানায়, চলতি বছর ২৭০টির বেশি সম্প্রদায় এবং অন্তত ১ হাজার ৬৮০ জন বসতি স্থাপনকারী হামলার শিকার হয়েছে।

লেবাননে হামলা
হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল এ বছর লেবাননে ১ হাজার ৬৫৩টির বেশি হামলা চালিয়েছে। অধিকাংশ হামলাই হয়েছে দক্ষিণ লেবাননে। বেকা উপত্যকা ও রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠেও ইসরাইলি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইরানে হামলা
গত ১৩ জুন রাতে ইসরাইল প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে কয়েক ডজন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন এবং একাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়। ১২ দিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৪ জুন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এসিএলইডি জানায়, ইসরাইল ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৮টিতে অন্তত ৩৭৯টি হামলা চালিয়েছে।

সিরিয়ায় হামলা
গত এক বছরে সিরিয়ায় ২০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এসব হামলার বেশিরভাগই কুনেইত্রা, ডেরা ও দামেস্ক প্রদেশে সংঘটিত হয়েছে। আসাদ সরকারের পতনের পর ‘চরমপন্থিদের হাতে অস্ত্র যাওয়া ঠেকাতে’ এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে ইসরাইল।

ইয়েমেনে হামলা
এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে কমপক্ষে ৪৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত ২৮ আগস্ট রাজধানী সানায় ইসরাইলি বিমান হামলায় হুতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাবিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

কাতারে হামলা
গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরাইল হামলা চালায়। ওয়েস্ট বে লেগুন এলাকায় চালানো ওই হামলায় ছয়জন নিহত হন। হামলার পর কাতারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলা
গাজামুখী ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ও ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের নৌবহরেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। মাল্টা, তিউনিসিয়া ও গ্রিসের উপকূলের কাছে ড্রোন হামলায় এসব নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।