সুইজারল্যান্ডে বারে ৪০ জন নিহত: শ্যাম্পেনের আতশবাতিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে
- আপডেট সময় : ০১:৩০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৮৬ বার পড়া হয়েছে
সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রানস-মন্টানার ‘লা কনস্টেলেশন’ বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ১১৯ জন আহত হওয়ার পর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ভ্যালাইস ক্যান্টনের অ্যাটর্নি জেনারেল বিট্রিস পিলাউড শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগুনের উৎস নিয়ে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে লাগানো স্পার্কলার বা ঝলমলে আতশবাতি ছাদের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সম্ভাবনাই বাতিল করছি না। তবে বর্তমানে সবচেয়ে জোরালো ধারণা হলো—স্পার্কলার থেকেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।’ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করছেন কর্মকর্তারা। পিলাউড জানান, তদন্তে বারে ব্যবহৃত উপকরণ, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ধারণক্ষমতা এবং আগুন লাগার সময় ভেতরে থাকা মানুষের সংখ্যার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগুন জ্বলন্ত মোমবাতি অথবা শ্যাম্পেন বোতলে ব্যবহৃত আতশবাতি থেকেও শুরু হয়ে থাকতে পারে। আগুনের ফুলকি ছাদের খুব কাছে পৌঁছানোর পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বারের সিলিং ভবন নির্মাণবিধি অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছিল কি না এবং সেখানে ফোম ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারের একজন মালিক স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি তিনবার পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সব সময় নিয়ম মেনেই পরিচালনা করা হয়েছে। এদিকে নিহত ৪০ জনের আনুষ্ঠানিক পরিচয় শনাক্তের কাজ এখনও চলছে।
পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডেরিক গিসলার বলেন, ‘নিহত ও আহতদের শনাক্তকরণই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ ভ্যালাইস অঞ্চলের সভাপতি ম্যাথিয়াস রেইনার্ড জানান, আহতদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন এবং জীবন রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
গিসলার জানান, এখন পর্যন্ত ১১৩ জন আহতকে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭১ জন সুইস, ১৪ জন ফরাসি, ১১ জন ইতালীয় এবং চারজন সার্ব নাগরিক। আরও ছয়জনের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
রেইনার্ড বলেন, প্রায় ৫০ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। তাদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বা করা হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলার তাহিরিস দোস সান্তোসও রয়েছেন। তার ক্লাব এফসি মের্টজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর এখনো নিখোঁজদের স্বজনরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। নিখোঁজদের একজন ১৬ বছর বয়সী ইতালীয় নাগরিক আচিল বারোসি। তার খালা ফ্রান্সেসকা বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন, ‘আমরা জানি না সে এখনও বেঁচে আছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী ছিল এবং মিলানের একটি আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়েছিল।’
ঘটনার সময় বারের ভেতরে ঠিক কতজন মানুষ ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির ধারণক্ষমতা ছিল ৩০০ জন। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে আগামী ৯ জানুয়ারি ক্রানস-মন্টানায় ‘জাতীয় শোক’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



























