বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি
- আপডেট সময় : ০২:০৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ সংলাপের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি রিয়ালের দরপতন নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তথাকথিত ‘দাঙ্গাকারীদের’ আলাদা করে দেখার আহ্বান জানান। খামেনি বলেন, সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপ জরুরি এবং কর্মকর্তাদের তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে ‘দাঙ্গাকারীদের’ সঙ্গে আলোচনার কোনো অর্থ নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ভাষণে তিনি আবারও চলমান বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতনের জন্যও ‘শত্রুপক্ষকে’ দায়ী করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তেহরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দমনে সহিংস পথ বেছে নেয়, তাহলে ওয়াশিংটন তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। তবে এ সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেননি ট্রাম্প। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনার পর ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে নানা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইয়েদ ইরাভানি মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অবৈধ হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং এর নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দুর্বল অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার ভোররাতে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিহতদের একজনের মৃত্যু হয়েছে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কোম শহরে। সেখানে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি সাধারণ মানুষের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড বহন করছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের পর এটি ইরানে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন।



























