ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে পৌঁছেছে।
- আপডেট সময় : ০১:২৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৭৯ বার পড়া হয়েছে
জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ইরানে টানা নয় দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশজুড়ে সহিংসতা ও প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে। ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে হতাহত ও গ্রেপ্তারের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে এ পর্যন্ত এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চারজন শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য রয়েছেন। ইরানের ভেতরে থাকা একটি বিস্তৃত কর্মী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশটির অতীতের অস্থিরতার সময়েও নির্ভরযোগ্য হিসেবে পরিচিত।
এইচআরএএনএ আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত সাতজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৪ জন, যাদের অধিকাংশই পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাতে আহত বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু এলাকায় সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এ অবস্থায় দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের খবর দিলেও তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে। রয়টার্স এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। ২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি ইরানি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর যে গণবিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, তার পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এবারের পরিস্থিতিতে জনগণের অসন্তোষের বিষয়ে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলনামূলকভাবে নরম। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিনিধিদের’ সঙ্গে আলোচনায় বসতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।



























