আগ্রাসনকারীদের হাত কেটে নেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাপ্রধানের
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১১২ বার পড়া হয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান শত্রুতামূলক বক্তব্যকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে তেহরান। এ ধরনের বক্তব্যের ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই উত্তরহীন থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান। তিনি আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ারও সতর্কবার্তা দেন।
বুধবার ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ইউনিভার্সিটির ৮৬তম কোর্সের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি।
ভাষণে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বশক্তিগুলোর এ ধরনের অপতৎপরতা বিশ্বব্যাপী ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যাপক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করছে।
পশ্চিম এশিয়ায় উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বিশ্বশক্তির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জেনারেল হাতামি বলেন, আল-আকসা ফ্লাড অভিযানের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন—ইসরায়েলের অস্তিত্ব না থাকলে তা নতুন করে তৈরি করতে হতো। এ মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় কেন পশ্চিমা বিশ্ব ইসরায়েলকে সব ধরনের অপরাধের পরও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল মূলত পশ্চিমা শক্তির একটি প্রক্সি ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে।
ইরানের কৌশলগত অবস্থান এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ দেশটির সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ এখন ইরানের জাতীয় শক্তির উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য জেনারেল হাতামি আরও বলেন, সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান নিয়ে যে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ দেখা যায়, তার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কোনো সম্পর্ক নেই। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরানি জনগণ প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে এবং বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ সময় তিনি জনগণের সচেতনতা ও মর্যাদার প্রশংসা করে সেনাসদস্য হিসেবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি দাবি করেন, ১২ দিনের ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে’ ইরানের সেনাবাহিনী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভুল হিসাবনিকাশ করলে শত্রুপক্ষকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে জেনারেল হাতামি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুরক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি ইরানি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।



























