ইরানের প্রধান বিচারপতি বলেন, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে।
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১১৭ বার পড়া হয়েছে
ইরানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করছে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদগুলো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানের প্রধান বিচারপতি সতর্ক করে বলেছেন, সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে।
দেশে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায়। রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে নেমে গেছে ১৩ লাখ ৯০ হাজারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারে পড়ছে, এবং মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীরা সড়কে নেমে আসেন। এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ অন্যান্য শহরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।
সরকার সীমিত সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কিছুটা খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। তবে বিক্ষোভ থামেনি। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানিসহ আহতের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত এবং ১,২০০ এর বেশি আটক হয়েছেন। ফার্স নিউজ জানাচ্ছে, ৩০০ পুলিশ ও আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোসেনি বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বা সমর্থন করছে, তারা দেশের স্বার্থে নয়, বিদেশের স্বার্থে কাজ করছে। অপরদিকে, সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামি জানিয়েছেন, যে কোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও বলেছেন, ইরান কখনো শত্রুর সামনে মাথা নত করবে না।



























