ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানে তীব্র অস্থিরতা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১১৬ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও সহিংস রূপ নিচ্ছে এবং বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির হাসপাতালগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইরানি চিকিৎসকদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার পর থেকেই হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরানের একটি চক্ষু হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে পাঠানো বার্তায় বলেন, আহত রোগীদের সামাল দিতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গুলি চালানো উচিত নয়, কারণ এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তার এ মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভকে সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক ভাঙচুর হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে।

এর মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ইরানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ বড় বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দুটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। তবে ইরানের ভেতরে সংবাদ সংগ্রহে বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভুলভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে কার্যত ইন্টারনেট অচল রয়েছে। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।

স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা তেহরানের এক চিকিৎসক জানান, দেশটির প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল চরম সংকটে রয়েছে। জরুরি নয়—এমন ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের ডেকে আনা হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকও বিবিসিকে পাঠানো ভিডিও ও অডিও বার্তায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি বলেন, আহত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় সার্জনের সংখ্যা কম। তার দাবি, আহত অনেকের মাথা ও চোখে গুলি লেগেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক সংগঠনের তথ্যমতে, ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী ও ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুই হাজার ৩১১ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নরওয়েভিভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নয় শিশুসহ অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিবিসি পার্সিয়ান নিহতদের ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার বিশ্বের সব মানুষের রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সরকারের দায়িত্ব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ইরানে তীব্র অস্থিরতা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও সহিংস রূপ নিচ্ছে এবং বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির হাসপাতালগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইরানি চিকিৎসকদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার পর থেকেই হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরানের একটি চক্ষু হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে পাঠানো বার্তায় বলেন, আহত রোগীদের সামাল দিতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গুলি চালানো উচিত নয়, কারণ এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তার এ মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভকে সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক ভাঙচুর হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে।

এর মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ইরানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ বড় বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দুটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। তবে ইরানের ভেতরে সংবাদ সংগ্রহে বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভুলভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে কার্যত ইন্টারনেট অচল রয়েছে। ফলে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।

স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা তেহরানের এক চিকিৎসক জানান, দেশটির প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল চরম সংকটে রয়েছে। জরুরি নয়—এমন ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের ডেকে আনা হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকও বিবিসিকে পাঠানো ভিডিও ও অডিও বার্তায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি বলেন, আহত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় সার্জনের সংখ্যা কম। তার দাবি, আহত অনেকের মাথা ও চোখে গুলি লেগেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক সংগঠনের তথ্যমতে, ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী ও ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুই হাজার ৩১১ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নরওয়েভিভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নয় শিশুসহ অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিবিসি পার্সিয়ান নিহতদের ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার বিশ্বের সব মানুষের রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সরকারের দায়িত্ব।