ট্রাম্পের আচরণে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের ডাক জোরদার
- আপডেট সময় : ০৭:২৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১১৮ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ ও নীতিগত অবস্থানের জেরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের আহ্বান ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার ডাক দিচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার পর মেক্সিকোতেও সামরিক অভিযানের হুমকি, ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়াকড়ি নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে এই বর্জন আন্দোলন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণও ফুটবলভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন দেশের দর্শকরা যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছেন এবং ফিফার কাছে স্টেডিয়ামে প্রবেশমূল্য কমানোর আবেদন জানিয়ে আসছেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর প্রকাশ্যে মেক্সিকোতেও সামরিক অভিযানের হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার দাবি, মেক্সিকোতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক মাদকচক্র যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করছে। পাশাপাশি তিনি কলম্বিয়া, ইরান ও গ্রিনল্যান্ড নিয়েও আগ্রাসী বক্তব্য দেন। এসব মন্তব্য বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় থাকা অভিবাসীরাও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সম্প্রতি মিনেসোটায় অভিবাসন পুলিশের তৎপরতার প্রতিবাদ চলাকালে আইসের এক এজেন্টের গুলিতে মিনিয়াপলিসে কবি ও মানবাধিকারকর্মী রিনী গুড নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপে করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৪ লাখের বেশি দর্শকের সমাগম হয়েছিল। ফলে ফিফা বিশ্বকাপ কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, স্বাগতিক দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত আসন্ন বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ফিফা সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বহু দর্শক ভিসার আবেদন ও হোটেল বুকিং সম্পন্ন করেছেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা বলে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এদিন আরও জানানো হয়, পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় বিভিন্ন পার্কে টিকিটের মূল্য কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রবেশের সময় পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। এসব সিদ্ধান্তও দর্শকদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রায় পাঁচ লাখ অনুসারী থাকা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাফা জানান, তিনি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের টিকিট বাতিল করেছেন। তার আশঙ্কা, এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতের সময় আইসের হয়রানির শিকার হতে পারেন দর্শকরা।
এদিকে গ্রিন পার্টির বামপন্থি রাজনীতিক আজামু বারাকা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেই নিজেকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়, তবে ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের মাধ্যমেই তার প্রতিফলন ঘটতে পারে।
সাবেক ফেডারেল আইনজীবী নাফির আফজালও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান, বিভিন্ন দেশে হামলার হুমকি এবং অভিবাসন পুলিশের গুলিতে একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তার মতে, এই প্রেক্ষাপটে ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের আহ্বান সময়োপযোগী হয়ে উঠেছে।



























