ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্যামনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে সংখ্যালঘুর জমি দখল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

গত ১৫ বছরে পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল: আইজিপি


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৪৪ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয়করণে নানা ধরনের বিচ্যুতির মধ্যে পড়েছিল এবং অনেক গণবিরোধী কাজ সংঘটিত হয়েছে। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার দায়ও পুলিশের ওপর এসেছে। লোভী ও দলকানা কিছু পুলিশ সদস্যের কারণে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এসব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে পুনরায় স্বমহিমায় দাঁড় করানো, সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং পেশাদার দায়িত্বে ফেরানোর লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে কাজ করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক সময় মানুষ ভুলভাবে পুলিশকে বিচার করে। তারা মনে করে, পুলিশ এখনো আগের মতো আচরণ করবে। গ্রেফতার বা শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করাকে অনেকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। ফলে নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় উপদেষ্টাদের কাছে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের জন্য পূর্ণ সমর্থন ও ‘গ্রিন সিগন্যাল’ চাওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় পুলিশ যদি কাজ করতে না পারে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ কোনো অন্যায় করলে অবশ্যই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

আইজিপি জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশের সঙ্গে প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়তায় থাকবে। অপরাধ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্ট গার্ডও কাজ করছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ অপরাধ দমন সম্ভব নয়। দেশে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশের লক্ষ্য থাকবে যেন একটি প্রাণও না হারায়। শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড সারা জাতিকে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দায় পুলিশের ওপর রয়েছে। খুলনা অঞ্চলে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু তদন্ত করা সম্ভব হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তবে সুযোগসন্ধানীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। জুলাই-আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মাজারে আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হত্যা মামলার মাত্র এক-তৃতীয়াংশের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মামলা জট ও দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া অপরাধীদের উৎসাহিত করছে, যা একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। এ বিষয়ে বিশেষ আইন প্রণয়নের দিকে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইজিপি আরও জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম পুলিশ সদস্যদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত দেড় লাখ পুলিশের মধ্যে এক লাখ ৩৩ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ আট হাজার এবং মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে।

কল্যাণ সভায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

গত ১৫ বছরে পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল: আইজিপি

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয়করণে নানা ধরনের বিচ্যুতির মধ্যে পড়েছিল এবং অনেক গণবিরোধী কাজ সংঘটিত হয়েছে। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার দায়ও পুলিশের ওপর এসেছে। লোভী ও দলকানা কিছু পুলিশ সদস্যের কারণে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এসব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে পুনরায় স্বমহিমায় দাঁড় করানো, সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং পেশাদার দায়িত্বে ফেরানোর লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে কাজ করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক সময় মানুষ ভুলভাবে পুলিশকে বিচার করে। তারা মনে করে, পুলিশ এখনো আগের মতো আচরণ করবে। গ্রেফতার বা শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করাকে অনেকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। ফলে নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় উপদেষ্টাদের কাছে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের জন্য পূর্ণ সমর্থন ও ‘গ্রিন সিগন্যাল’ চাওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় পুলিশ যদি কাজ করতে না পারে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ কোনো অন্যায় করলে অবশ্যই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

আইজিপি জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশের সঙ্গে প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়তায় থাকবে। অপরাধ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্ট গার্ডও কাজ করছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ অপরাধ দমন সম্ভব নয়। দেশে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশের লক্ষ্য থাকবে যেন একটি প্রাণও না হারায়। শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড সারা জাতিকে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দায় পুলিশের ওপর রয়েছে। খুলনা অঞ্চলে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু তদন্ত করা সম্ভব হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তবে সুযোগসন্ধানীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। জুলাই-আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মাজারে আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হত্যা মামলার মাত্র এক-তৃতীয়াংশের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মামলা জট ও দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া অপরাধীদের উৎসাহিত করছে, যা একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। এ বিষয়ে বিশেষ আইন প্রণয়নের দিকে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইজিপি আরও জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম পুলিশ সদস্যদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত দেড় লাখ পুলিশের মধ্যে এক লাখ ৩৩ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ আট হাজার এবং মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে।

কল্যাণ সভায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।