চীন-রাশিয়া-ইরান জোটের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সপ্তাহব্যাপী নৌ মহড়া শুরু
- আপডেট সময় : ০২:৩১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১২০ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ একাধিক দেশের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ‘উইল ফর পিস ২০২৬’ নামের এই মহড়া গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) কেপটাউনের উপকূলে শুরু হয়, যা চলবে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌ মহড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনার প্রেক্ষাপটে মহড়াটি শুরু হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উপকূলের কাছে অনুষ্ঠিত এই মহড়াকে কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের (এসএএনডিএফ) জয়েন্ট অপারেশন ডিভিশনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন নন্ডওয়াখুলু থমাস থামাহা বলেন, চীনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই মহড়া শুধু সামরিক অনুশীলন নয়, বরং উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা সামুদ্রিক পরিবেশে এ ধরনের সহযোগিতা অপরিহার্য। আমাদের লক্ষ্য নৌপথ এবং সামুদ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
ব্রিকস জোটটি প্রথমে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত হলেও পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হয়।
চলমান মহড়ায় চীন ও ইরান ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাঠিয়েছে করভেট শ্রেণির জাহাজ, আর স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত করেছে একটি ফ্রিগেট। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও ব্রাজিল পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছে।
এই মহড়া মূলত গত বছরের নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সময়সূচির সঙ্গে সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়। ওই সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্র বর্জন করে। ওয়াশিংটন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রিকস জোটের বিরুদ্ধে ‘মার্কিনবিরোধী’ অবস্থানের অভিযোগ তুলে আসছে এবং সদস্য দেশগুলোর ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কসহ বিভিন্ন নীতিগত অবস্থানের কারণে অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা দায়েরের সিদ্ধান্তও এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আফ্রিকানারদের ওপর কথিত ‘গণহত্যা’ ও জমি বাজেয়াপ্তের অভিযোগ তুললেও দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট রামাফোসার নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য সরকারের শরিক দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ) এই নৌ মহড়ার সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, ‘ব্রিকস সহযোগিতা’র আড়ালে সরকার রাশিয়া ও ইরানের মতো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ও বিতর্কিত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়া আয়োজন করেও সমালোচনার মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই মহড়াটি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রথম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া ও চীন প্রথমবারের মতো যৌথ নৌ মহড়া চালায় ২০১৯ সালে।



























