হাদির বিচার দাবিতে পঞ্চগড়ে সড়ক অবরোধ, লাঠিচার্জে ২৩ জন আহত
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১১১ বার পড়া হয়েছে
শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে পঞ্চগড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের নামে সেনা সদস্যরা তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। এতে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ‘বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থী’ ব্যানারে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিকেল ৪টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বীর সমাপনী বক্তব্য চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে সেনা সদস্যরা মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে লাঠির আঘাতে শিক্ষার্থীরা আহত হন।
আহতদের মধ্যে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ ও মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৩ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর জানান, ২৩ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের অধিকাংশের শরীরে আঘাতজনিত জখম রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। বক্তব্য শেষ করে চলে যাওয়ার সময় সেনাবাহিনী হঠাৎ লাঠিচার্জ করে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় জনদুর্ভোগ কমাতে আমাদের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ধস্তাধস্তি হয়। সরানোর সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ আঘাত পেতে পারেন, তবে পরিকল্পিত কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি।’
তার হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।






















