খামেনির সমর্থনে ইরানের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল
- আপডেট সময় : ০৭:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১৭৩ বার পড়া হয়েছে
বিদেশি মদদে সৃষ্ট সাম্প্রতিক দাঙ্গা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার ইরানজুড়ে ব্যাপক গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশের রাজপথে নেমে সর্বস্তরের মানুষ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তেহরানে মূল কর্মসূচি শুরু হলেও অনেক প্রদেশে সকাল থেকেই মিছিল শুরু হয়। দেশের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে শত্রুপক্ষের চলমান ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এই জনসমাগমকে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
গত মাসে ইরানের বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শুরু হলেও পরে তা সহিংস রূপ নেয়। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে এবং তাদের মদদপুষ্ট ফার্সি ভাষার কিছু গণমাধ্যমের প্ররোচনায় এই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে নাশকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ যৌক্তিক। তবে তাদের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল রপ্তানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে দাঙ্গাকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর বক্তব্যে মোসাদের সংশ্লিষ্টতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শুক্রবার এক ভাষণে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ইরান দাঙ্গাকারীদের কাছে নতি স্বীকার করবে না। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও দাঙ্গা এক নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরীহ নাগরিক হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি এসব নাশকতাকারীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছে।
পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, তবে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে।
সোমবারের সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ জানান, তারা বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তেহরানে বিক্ষোভকারী মোহাম্মদ আলী আব্বাসি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতেই তিনি রাজপথে নেমেছেন। ফাতেমা নামের আরেক বিক্ষোভকারী জানান, অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও এর সমাধান দেশের অভ্যন্তরেই হওয়া উচিত; বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না।
এদিকে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রক্তপাত ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত বিদেশি চরদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না।



























