ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শরীয়তপুরে শিশু হত্যা: দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনকে ২১ বছর কারাদণ্ড


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১১৩ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

শরীয়তপুরে অপহরণের পর শিশু শিক্ষার্থী হৃদয় খান নিবিরকে (১১) হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর কিশোর আসামিকে তিনটি ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী (১৯) এবং পাবনার সিংগা এলাকার সিয়াম হোসেন (২০)। অপর ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসামির বিচার হয়েছে শিশু আদালতে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হৃদয় খান নিবির শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে এবং শিশুকানন কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই সে নিখোঁজ হলে পরিবার পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই রাতেই অপহরণকারীরা হৃদয়কে মুক্তির জন্য ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পুলিশ মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে শাকিল, সিয়াম ও কিশোর আসামিকে আটক করে। পরদিন খিলগাঁও এলাকার একটি ইটভাটা থেকে হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে আসামিরা স্বীকার করেন, তারা হৃদয়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও কিশোর আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার সময় স্থানীয়রা পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নিহত হৃদয়ের মা নিপা আক্তার, বাবা মনির খান ও আত্মীয়স্বজন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিপা আক্তার বলেন, “টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কিশোর আসামির শাস্তিতে সন্তুষ্ট নই। রাষ্ট্রের কাছে আবেদন, রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসতিয়াক আহমদ জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শরীয়তপুরে শিশু হত্যা: দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনকে ২১ বছর কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরে অপহরণের পর শিশু শিক্ষার্থী হৃদয় খান নিবিরকে (১১) হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর কিশোর আসামিকে তিনটি ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী (১৯) এবং পাবনার সিংগা এলাকার সিয়াম হোসেন (২০)। অপর ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসামির বিচার হয়েছে শিশু আদালতে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হৃদয় খান নিবির শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে এবং শিশুকানন কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই সে নিখোঁজ হলে পরিবার পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই রাতেই অপহরণকারীরা হৃদয়কে মুক্তির জন্য ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পুলিশ মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে শাকিল, সিয়াম ও কিশোর আসামিকে আটক করে। পরদিন খিলগাঁও এলাকার একটি ইটভাটা থেকে হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে আসামিরা স্বীকার করেন, তারা হৃদয়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও কিশোর আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার সময় স্থানীয়রা পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নিহত হৃদয়ের মা নিপা আক্তার, বাবা মনির খান ও আত্মীয়স্বজন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিপা আক্তার বলেন, “টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কিশোর আসামির শাস্তিতে সন্তুষ্ট নই। রাষ্ট্রের কাছে আবেদন, রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসতিয়াক আহমদ জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।