বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নেওয়ায় রোগীবাহী গাড়ি আটকে দেয় ‘অ্যাম্বুলেন্স চক্র’, পথে রোগীর মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০১:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৮৪ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে দেড় ঘণ্টা বিলম্বের পর ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির নাম জমশেদ আলী ঢালী (৭০)। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮–১০ জন ব্যক্তি ঢাকা–শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও নড়িয়ার জামতলা এলাকায় দুই দফায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটি ছাড়া হলেও ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই জমশেদ আলীর মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
স্বজনেরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল চত্বর থেকে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। তবে রোগী ওঠানোর পর ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি করা হয়। পরে তাঁরা পরিচিত একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা–শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের একটি দল অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। তারা স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স না নিয়ে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়ার কারণ জানতে চায়।
প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে অ্যাম্বুলেন্সটি ছাড়া হলেও নড়িয়ার জামতলা এলাকায় আবার সেটি আটকে দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট বাগ্বিতণ্ডার পর অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করা হলেও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই বিকেল চারটার দিকে জমশেদ আলীর মৃত্যু হয়।
মৃত ব্যক্তির নাতি জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। ঢাকায় পৌঁছালেও হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আমার নানার মৃত্যু হয়।’
রাত আটটার দিকে জমশেদ আলীর লাশ নিয়ে স্বজনেরা শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানান। পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ বলেন, ‘সকালে একজন বয়স্ক রোগী স্ট্রোকজনিত সমস্যায় ভর্তি হয়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পথে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত নই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালক সুমন খান মুঠোফোনে বলেন, ‘ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সে কেন শরীয়তপুর হাসপাতালের রোগী তোলা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছিলাম। আমি কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকাইনি। অভিযোগটি সঠিক নয়।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৪ আগস্ট শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার ঘটনায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। সে ঘটনায় মামলা হয়েছিল।






















