ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভূমি উপদেষ্টা বলেছেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সহজ ও জনবান্ধব হওয়া উচিত।


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৩৭ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশের অগ্রযাত্রার জন্য উন্নয়ন অপরিহার্য। সড়ক, রেল, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চল সকলই জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই উন্নয়নের সঙ্গে কৃষি জমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনাহীন ও অতিমাত্রায় ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও কৃষকের জীবনের জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।

ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক অংশীজন কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব ব্যাংক (বাংলাদেশ)।

উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, দেশের ভূমি সংস্থান সীমিত। অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণের চেষ্টা প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের অধিকার হরণ করে। ক্ষতিপূরণ না পাওয়া, দীর্ঘসূত্রতা, পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা ও স্বচ্ছতার অভাব জনগণের অসন্তোষের মূল কারণ।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয় সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভূমি অধিগ্রহণে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। কৃষি জমি সুরক্ষা আইন কার্যকর করা, তিনফসলি জমিতে প্রকল্প কমানো ও বিকল্প জমি ব্যবহার অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তিনি বলেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ভূমি অধিগ্রহণে জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় ভূমি অধিগ্রহণ আইন, ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া, পুনর্বাসন কার্যক্রম ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আগে মূল্য পরিশোধের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রস্তাব করা হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. হালিমা খাতুন, টিম লিডার সিজিএসআইজি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ভূমি উপদেষ্টা বলেছেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সহজ ও জনবান্ধব হওয়া উচিত।

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশের অগ্রযাত্রার জন্য উন্নয়ন অপরিহার্য। সড়ক, রেল, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চল সকলই জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই উন্নয়নের সঙ্গে কৃষি জমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনাহীন ও অতিমাত্রায় ভূমি অধিগ্রহণ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও কৃষকের জীবনের জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।

ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক অংশীজন কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব ব্যাংক (বাংলাদেশ)।

উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, দেশের ভূমি সংস্থান সীমিত। অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণের চেষ্টা প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের অধিকার হরণ করে। ক্ষতিপূরণ না পাওয়া, দীর্ঘসূত্রতা, পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা ও স্বচ্ছতার অভাব জনগণের অসন্তোষের মূল কারণ।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয় সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভূমি অধিগ্রহণে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। কৃষি জমি সুরক্ষা আইন কার্যকর করা, তিনফসলি জমিতে প্রকল্প কমানো ও বিকল্প জমি ব্যবহার অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তিনি বলেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ভূমি অধিগ্রহণে জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় ভূমি অধিগ্রহণ আইন, ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া, পুনর্বাসন কার্যক্রম ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আগে মূল্য পরিশোধের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রস্তাব করা হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. হালিমা খাতুন, টিম লিডার সিজিএসআইজি।