ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি, দায় নার্সদের


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২২০০ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রান্নাবান্নাসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্নাসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনায় অন্তত ১০ জন নার্সের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে তদন্তে কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তার গাফেলতির প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা একাধিক প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, গাইনি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকরাও নার্সদের তৈরি করা খাবার গ্রহণ করতেন। অথচ অনিয়মের দায় কেবল নার্সদের ওপর চাপানোয় চিকিৎসকদের দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, অপারেশন থিয়েটারে চুলা জ্বালিয়ে রান্নাবান্নার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পাঁচ কার্যদিবসের সময়সীমা নির্ধারণ করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের বেশ কয়েকটি বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য অনিয়মে জড়িত নার্সদের বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মন্ডল ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। প্রতিবেদনে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সেবার মানোন্নয়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, “আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে এ তদন্তে চিকিৎসকদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।”

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জালাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন আমরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবর পাঠিয়েছি। তদন্তনাধীন বিষয়ে আপাতত মন্তব্য করা যাবে না।”

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তদন্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন সহকারী পরিচালক ডা. জালাল হোসেন, সদস্য সচিব ছিলেন আরএমও ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ এবং সদস্য ছিলেন ডা. মশিউর রহমান।

উল্লেখ্য, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে রান্নাবান্নাসহ নানা অনিয়মের খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি, দায় নার্সদের

আপডেট সময় : ০৬:৪২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রান্নাবান্নাসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্নাসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনায় অন্তত ১০ জন নার্সের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে তদন্তে কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তার গাফেলতির প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা একাধিক প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, গাইনি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকরাও নার্সদের তৈরি করা খাবার গ্রহণ করতেন। অথচ অনিয়মের দায় কেবল নার্সদের ওপর চাপানোয় চিকিৎসকদের দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, অপারেশন থিয়েটারে চুলা জ্বালিয়ে রান্নাবান্নার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পাঁচ কার্যদিবসের সময়সীমা নির্ধারণ করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের বেশ কয়েকটি বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। এজন্য অনিয়মে জড়িত নার্সদের বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মন্ডল ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। প্রতিবেদনে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সেবার মানোন্নয়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, “আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে এ তদন্তে চিকিৎসকদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।”

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জালাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন আমরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবর পাঠিয়েছি। তদন্তনাধীন বিষয়ে আপাতত মন্তব্য করা যাবে না।”

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তদন্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন সহকারী পরিচালক ডা. জালাল হোসেন, সদস্য সচিব ছিলেন আরএমও ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ এবং সদস্য ছিলেন ডা. মশিউর রহমান।

উল্লেখ্য, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে রান্নাবান্নাসহ নানা অনিয়মের খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।