জুলাই যোদ্ধাদের দেখভালের আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০১:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৮৯ বার পড়া হয়েছে
ক্ষমতায় এলে জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল, যা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কল্যাণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ তারাও এক ধরনের মুক্তিযোদ্ধা। এ লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি নতুন বিভাগ খোলা হবে, যা তাদের দেখভাল করবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ এক চোখ হারিয়েছেন, কেউ দুই চোখই হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। জুলাই মাসে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে গণহত্যা বলা যায়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা হারায়নি, বরং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, সে সময় স্বাধীনতাকামী সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের ছিল না; এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত মানুষের গণ-আন্দোলন। যারা এই স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থের আন্দোলনে রূপ দিতে চায়, তাদের বিষয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী মানুষের সজাগ থাকা প্রয়োজন।
গণ-আন্দোলনে আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি দুইভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে। এক—রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই—তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করা। হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে এই দায়িত্ব পালন করবে।
নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে শোক সমাবেশ ও শোকগাঁথাই চলতে থাকবে। কিন্তু গণতন্ত্রকামী মানুষ আর শোকগাঁথা নয়, আগামী বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।




























